কোন পথে ছাড়পত্র পেলো বাঁশখালী প্রকল্প!

উদিসা ইসলাম
২৬ জুন ২০১৬, ০৯:৩৮আপডেট : ২৬ জুন ২০১৬, ১৫:৩২

বাঁশখালী প্রকল্প

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) ছাড়পত্র দেওয়ার পদ্ধতিতে বড় ধরনের ঘাপলা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা। একবছর আগে চাওয়া ছাড়পত্র এলাকাবাসীর বিরোধিতার পর তাড়াহুড়ো করে দেওয়ায় এ সন্দেহ আরও দানা বাঁধছে। ছাড়পত্র পাওয়া নিয়ে যেমন শঙ্কা জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা, ঠিক তেমনই ছাড়পত্রে জুড়ে দেওয়া শর্ত কোনোটাই মেনে চলবে না এমন শঙ্কা এলাকাবাসীর। যদিও ছাড়পত্র প্রদানকারীরা বলছেন, নিয়ম মেনেই সব হয়েছে।

গত ১৮ জুন চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনসহ ৫৯টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। আবেদনের প্রায় এক বছর পর আন্দোলনের মুখে ছাড়পত্র দেওয়ার সমালোচনা করে আনু মুহাম্মাদ বলেন, ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বাঁশখালীতে এত তুলকালাম হলো, প্রশাসনের যে ভূমিকা ছিল তাতে বোঝাই যাচ্ছিল ছাড়পত্র পেতে সমস্যা হবে না।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হওয়ায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্তত তিন ধরনের ছাড়পত্র প্রয়োজন । কেননা, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা (১৯৯৫) অনুযায়ী, এগুলো লাল তালিকাভুক্ত বা মারাত্মক পরিবেশ দূষণকারী প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত। তারপরও ছাড়পত্র না নিয়েই সেখানকার মানুষের ওপর ‍অন্যায় জুলুম চালানো হয়েছে।

ছাড়পত্রের শর্তগুলোর মধ্যে আছে, সেখানকার ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ, খাল সংরক্ষণ করে ভৌত অবকাঠামোর কাজ করা, পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ, মজুত কয়লায় ঢাকনা ব্যবহার করা ইত্যাদি। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে এলাকার পক্ষে-বিপক্ষের লোকজন ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ৪ এপ্রিল দুই ভাইসহ চারজন নিহত হন।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, পরিবেশগত ছাড়পত্র বিষয়ে প্রণীত বিধিমালাতে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন, পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন, জনমত যাচাই, এই সকল বিষয়ে জনগণের তথ্য প্রাপ্যতা, ছাড়পত্র প্রদানকারী কমিটির গঠন ও কর্মপদ্ধতি, ছাড়পত্রের ন্যূনতম আবশ্যকীয় শর্তাবলী, আপিল ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জনমত যাচাই, যেটা এখানে উপেক্ষিত হয়েছে এবং এলাকার মানুষ প্রতিরোধ করতে গিয়ে মারা গেছেন। অ্যাক্টিভিস্ট কল্লোল মোস্তাফা বলেন, এখন ছাড়পত্র দেওয়া হলেও কাজ শুরু হয়েছিল ছাড়পত্র ছাড়াই। আগে কাজ শুরু করে দিয়ে পরে আন্দোলন ও সমালোচনার মুখে দেওয়া লোক দেখানো পরিবেশ সমীক্ষার কোনও গ্রহণযোগ্যতা থাকতে পারে না। তিনি আরও বলেন, কথিত এই ইআইএ রিপোর্টের ওপর জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়নি। কোনও গণশুনানি করা হয়নি। এমনকি রিপোর্টটি প্রকাশ পর্যন্ত করা হয়নি। তাই এই পরিবেশ সমীক্ষার কোনও মূল্য নেই।

তেলগ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর খনিজসম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক আনু মুহাম্মাদ মনে করেন- অনিয়ম, অস্বচ্ছতা, ভূমিগ্রাস আর জোরজুলুম দিয়েই এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের প্রশাসন প্রথম থেকেই এস. আলম গ্রুপের বাহিনী হিসেবে কাজ করছে। যৌথভাবে মানুষ হত্যার পর সমালোচনার মুখে তারা একটা ছাড়পত্র হাজির করেছে। স্বাধীন পরিবেশ সমীক্ষা, আর তা প্রকাশের পরে জনসংলাপ, জনসম্মতির পরই কেবল ছাড়পত্র আসতে পারে। এখন যে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে তা হলো নির্দেশমূলক ছাড়পত্র, এগুলো পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দেওয়া হয়।

ছাড়পত্র বিষয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কথা বলতে রাজি হননি। তবে সচিব কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, নিয়ম মেনেই সব কাজ সম্পাদন হয়েছে। উল্লেখ্য, এস. আলম গ্রুপ সেখানে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। এতে খরচ হবে ২৫০ কোটি ডলার। এস. আলমের সঙ্গে চীন এখানে বিনিয়োগ করবে।

এপিএইচ/আপ-এসটি

আরও পড়ুন:

শ্বাসরুদ্ধকর ১৬ ঘণ্টায় যা ঘটলো

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি