জেডএক্সওয়াই ইন্টারন্যাশনালের মানব সম্পদ বিভাগের পরিচালক ইশরাত আখন্দ। গ্রামীণফোন ও ওয়েস্টিন হোটেলের দায়িত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন, ছিলেন বিজিএমইএ-এর সাবেক মানবসম্পদ উপদেষ্টা। গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় নিহত যে ২০ জনের পরিচয় জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) তাদেরই একজন ইশরাত আখন্দ।
ইশরাতের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার বন্ধুরা তাকে নিয়ে লিখছেন, ভাসছেন স্মৃতিকাতরতায়। এদেরই একজন লন্ডনপ্রবাসী নাদিয়া ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি লিখেছেন—
দে কিলড মাই ফ্রেন্ড!
আরও লেখেন—
‘মৃত্যুর সাথে আমার পরিচয় নতুন না। আমি ল্যাবে, মর্গে প্রতিদিন লাশ দেখি। অর্ধেক নাই হইয়া যাওয়া লাশ, পইচা গইলা যাওয়া লাশ, মাংস খইসা পড়া লাশ। এ্যাক্সিডেন্টে গাড়ীর উইন্ডশিল্ডে ঢুইকা যাওয়া চোখ খোলা লাশের সামনে দাঁড়ায়ে আমি মুখ শক্ত কইরা নোট নেই। নিজে মারা যাইতে যাইতে বাঁইচা গেছি বহুবার। তবু এই মৃত্যুটা আমারে নাড়ায়ে দিয়া গেলো।
ইশরাতের সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার কথা ছিলো গতকাল। আমার ড্রাইভার অসুস্থ থাকায় আমি বাড়ি থিকা বাইর হইতে পারলাম না। বললাম, ‘আচ্ছা, নেক্সট উইকে দেখা হবে!’ নেক্সট উইক যে আর আসবে না, সেইটা কি আমাদের দুইজনের কেউই ভাবছিলাম?
উনি কাজও করতেন প্রচুর। উনি ছিলেন একই সাথে বি-জি-এম-ই-এ এবং জেড-এক্স-ওয়াই-এর হিউম্যান রিসোর্স ডিরেক্টার, ওয়েস্টিন হোটেলের মার্কেটিং ডিরেক্টার এবং ইন্সটিটিউট অফ এশিয়ান ক্রিয়েটিভসের আর্ট প্রভোকিউরেটার। গ্রামীন এবং ব্র্যাকনেটেও কাজ করতেন একসময়।
তবে উনার সবচাইতে পছন্দের কাজ ছিলো ‘আই এ্যাম হ্যাপি, বি’কজ-’ বইলা একটা দাতব্য কাউন্সেলিং কোর্স চালানো। এবং তার অংশ হিসাবে উনি প্রতিদিন আগরুম বাগরুম সব ছবি আপ করতেন ফেইসবুকে। যেমন উনার রান্না করা শুঁটকি মাছ, বা উনার জানলার বাইরে বইসা থাকা কাক, বা আকাশ, বা উনার দারোয়ান অফিসে একটা কামিনী গাছ নিয়া আসছেন, সেই গাছভর্তি সাদা রঙ্গের ফুল! উনার ভাষায়, ‘ডেইলি ডোজ অফ পজিটিভিটি!’
তো আজকে ইশরাতরে যখন ‘ইসলামের’ নামে জবাই করা হইলো, ইশরাত তখন কী ভাবতেছিলেন, ভাবি আমি। তখনও কি উনি মনে মনে বলতেছিলেন, ‘আমার দেশের মত সুন্দর দেশ পৃথিবীতে আর একটাও নাই?’ বলতেছিলেন কি? উনার চোখ দিয়া উনার সুন্দর দেশের জন্য তখন এক ফোঁটা পানি গড়াইয়া পড়ছিলো কি?
ইশরাতকে মিস করবেন জানিয়ে সাংবাদিক আরিফ জেবতিক লিখেছেন—
আপনাকে আমরা মিস করবো ইশরাত। আপনি ভালো থাকুন।
গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব ফেরদৌস বাপ্পী তার ফেসবুকে লিখেছেন—
গুলশানের এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২০ জনের মধ্যে আমাদের প্রিয় কেউ থাকবে একটু আগেও ভাবতে পারিনি। কয়েকজন বলার পরও বিশ্বাস হয় নি। কেমন করে হবে এমন দারুণ হাসিখুশি, বন্ধুবৎসল, শিল্প- সংস্কৃতিমনা খোলামনের মানুষটা এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার কী করে হয় !
ইশরাত আখন্দ, আমাদের বন্ধু, গ্রামীনফোনে সহকর্মী, সর্বশেষ কর্মরত ছিলেন হিউম্যান রিসোর্স ডাইরেক্টর হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে । ইশরাত এমন নৃশংস ঘটনার শিকার হবে কল্পনাও করতে পারি না । সম্ভবত রাতেই তাকে হত্যা করা হয়।
আল্লাহতালার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন ইশরাতকে বেহেশত নসীব করেন এবং আমাদের সবাইকে নিরাপদে রাখেন । আমিন।
উল্লেখ্য, গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহত ২০ জনের নাগরিকত্ব ও পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি ও ৩ জন বাংলাদেশি। বিদেশিদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি ও একজন ভারতীয়। নিহত ১৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও রাত ১০টা পর্যন্ত জাপানি ৭ জনের নাম ঠিকানা জানাতে পারেনি দেশটির দূতাবাস।
/এইচকে/
আরও পড়ুন: বেঁচে নেই ইশরাত আখন্দ







