নিজেকে একজন ব্যর্থ বাবা হিসেবে উল্লেখ করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গি রোহান ইবনে ইমতিয়াজের বাবা এস এম ইমতিয়াজ খান বাবুল। তিনি বলেন, ‘আমি একজন ব্যর্থ পিতা। ছেলের কর্মকাণ্ডে আমি যেমন ব্যথিত, তেমনই বিব্রত।’ জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইট ইন্টেলিজেন্সে হামলাকারীদের ছবি প্রকাশের পরেই রোহানের আসল পরিচয় প্রকাশ পায়। তার বাবা ইমতিয়াজ খান বাবুল সদ্যবিলুপ্ত অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিবের দায়িত্ব ছাড়াও বাংলাদেশ সাইক্লিস্ট ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নিজেকে ‘ব্যর্থ পিতা’ উল্লেখ করে ইমতিয়াজ খান বাবুল বলেন, টিভির মাধ্যমে জানতে পারি, এ ঘটনায় আমার ছেলেও জড়িত। আমি আপনাদের মাধ্যমে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এমন একটি ঘটনায় আমরা অপ্রস্তুত। আমি ও আমার স্ত্রী ভারতে অবস্থানকালে গতবছর আমার ছেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আমরা আর তার বিষয়ে জানি না।
শুক্রবার গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম এক জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে রোহানসহ পাঁচ জঙ্গি। তাদের মধ্যে সবাই গত কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ ছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে তাদের পরিবার।
রোহান নিঁখোজ হওয়ার পর ইমতিয়াজ খান একটি জিডিও করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রোহান বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়ে আর ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজন ও রোহানের বন্ধু-বান্ধবের কাছে সন্ধান করেও খোঁজ না পেয়ে ৪ জানুয়ারি জিডি করেন তিনি।
তবে রোহান অত্যন্ত ভীতু প্রকৃতির ছিল দাবি করে ইমতিয়াজ খান এও বলেন, তার হাতে এতবড় অস্ত্র কোথা থেকে এলো, আর কারাই বা তাকে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ দিলো, তা খুঁজে বের করতে আমি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করছি।
রোহানের আগের ছবির সঙ্গে সাইটে প্রকাশিত ছবির কিছু ফারাক থাকার কারণে প্রথমে পরিবার অস্বীকার করলেও পরবর্তী সময়ে চেহারার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। আগের ছবির সঙ্গে বর্তমান ছবির মিল তার পরিচিতজনেরাই তুলে ধরেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এখনও ৫ জঙ্গির লাশ পরিবারের সদস্যরা না নিলেও রোহানের বাবা জানান, রোহানের লাশ সিএমএইচে আছে বলে কর্তৃপক্ষ জানালেও হস্তান্তরের বিষয়ে কোনও কথা হয়নি।
/ইউআই/এমএনএইচ/








