সুন্দরবন হত্যা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র: এমাজউদ্দীন আহমদ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২২ জুলাই ২০১৬, ১৪:৩৩আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৬, ১৪:৪১

এমাজউদ্দীন আহমদ সুন্দরবনকে ‘হত্যা’ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা দেশের বাইরে থেকে করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ।

তিনি বলেন, দেশে যখন জঙ্গি হামলা চলছে, তখন সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে জাতিকে আড়াল করে এ চুক্তি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘সুন্দরবন একটাই: সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই’ শীর্ষক আলোচনায় এমাজউদ্দীন আহমদ ভারতকে ইঙ্গিত করে বলেন, রামপালের কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের এমডির দায়িত্ব কোনো বাংলাদেশিকে নয়,দেওয়া হয়েছে ভারতের একজনকে।

তার দাবি, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা আমাদের দেশের কারও করা, বাংলাদেশের কেউ জেনেশুনে এই ক্ষতি করবে, তা বিশ্বাস করা যায় না।

এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, সুন্দরবনের যে এত ক্ষতি হচ্ছে, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরোপুরি জানেন না। সুন্দরবনের ক্ষতির বিষয়টি পুরোপুরি জানলে তিনি এত বড় ক্ষতি হতে দিতেন না।

তিনি বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের জন্য অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে বাংলাদেশের মানুষকে বাঁচিয়েছে। কত অল্প আয়ের জন্য জাতির কত বড় ক্ষতি করতে যাচ্ছে সরকার, তা এখনও বুঝতে পারছে না।

আগামী আগস্টের মধ্যে সুন্দরেবনের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে জাতির সামনে তুলে ধরতে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান এমাজউদ্দীন। পাশাপাশি সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র সরিয়ে অন্য জায়গায় স্থাপনেরও আহ্বান জানান তিনি।

সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- সৈয়দ তোশারফ আলী, বাপার সাধারণ সম্পাদক ড. আবদুল মতিন, আইনজীবী হুমায়ুন কবির বুলবুল প্রমুখ।

সুন্দরবন রক্ষায় এ প্রকল্পের চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানান তারা।

সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- সিএইচআরএমের নির্বাহী প্রধান মোজাহেদুল ইসলাম মুজাহিদ।

প্রবন্ধে বলা হয়, সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতিতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার ফলে শতকরা ১২ ভাগ দূষণ কম হবে সরকার এমন দাবি করলেও ৮৮ ভাগ দূষণের কথা বলছে না।

কয়েকটি গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রবন্ধে বলা হয়,এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে এলাকার শতভাগ পানি, ২০ ভাগ বাতাস এবং ৬৫ ভাগ মাটি দূষণের শিকার হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি করা হলেও বাস্তবে চার হাজার ৬০০ লোক এতে কাজ করতে পারবেন। বাস্তবতা হলো, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন পাঁচটি জেলার ১৯টি উপজেলার কয়েক লাখ লোক তাদের জীবিকা হারাবেন। এরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল।

/এসটিএস/এবি/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম