রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের লেভেল-৬ এর সি ব্লকে একটি জুতার দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের পরপর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে পুরো শপিং মল। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মার্কেটের ভেতর প্রবেশ করে সমর্থ হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে। প্রথম দিকে তারা লেভেল-৬ এর কাঁচ ভেঙে ধোঁয়া বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার আতাউর রহমান একথা জানিয়েছেন।
বসুন্ধরা সিটির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সূত্র থেকে জানা গেছে, ঘটনার পরপর মার্কেটের সব লিফট বন্ধ করে দেওয়া হয়। খোলা রাখা হয় সিড়িগুলো। মার্কেটে উপস্থিত লোকজনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে।
লেভেল-৫ এর সি ব্লকের চশমার দোকান আই ভিলা'র মালিক আসলাম বলেন, 'আগুন লাগার পর আমরা দৌড়ে নিচে নেমে আসি। নামতে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন।'
এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘বারবার কেন বসুন্ধরায় আগুন লাগে তা খতিয়ে দেখা হবে। সিটি করপোরেশনের ইঞ্জিনিয়ারিং টিম নিয়ে এসেছি। ফায়ার সার্ভিস চাইলে সহযোগিতা নিতে পারে। হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে, প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা হবে।’
এ ঘটনায় ৯-১০ জন আটকা পড়েছেন। তারা ছাদে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা নিরাপদ আছেন।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বি. জে. আহম্মদ আলী খান বলেছেন, ‘আট থেকে ৯ জনকে উদ্ধার করেছি আমরা। এখনও তিনজন লোক আটকা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে কাজ চলছে। প্রথমে ছয়টি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে আরও ১০টি ইউনিট যোগ দিয়েছে। ছয়তলার সিলিংয়ে আগুন লেগেছে। ভেতরে ধোঁয়ার কারণে কাজ করা সমস্যা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে পানির সংকট ছিল, পরবর্তীতে ওয়াসার সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন আর পানির সমস্যা নেই।
ডিএমপির তেজগাঁও জোনের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস যাতে নিরাপদে কাজ করতে পারে আমরা সেই সহযোগিতা করছি।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান বলেন, 'এখনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এখানে ফায়ার সার্ভিস মূলত কাজ করছে। আমরা তাদের কাজের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করছি।'
লেভেল ৬ এর ই-ব্লকের ফোন ল্যান্ড দোকানের মালিক দ্বিন মোহাম্মদ বলেছেন, 'সকাল ১১টার দিকে আগুনের কথা শুনে সি-ব্লকে যাই। সেখানে গিয়ে আগুন দেখতে পাই। বসুন্ধরার অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ভালো। মনে করছিলাম নিভিয়ে ফেলতে পারবে। কিন্তু তারপর আরও বাড়ল কেন কিছু বুঝলাম না।'
এর আগে ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লেগেছিল।
আগুন মার্কেটের ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছে। বাতাসের কারণে পেছন দিক দিয়ে পানি দিতে পারছেন না ফায়ার সার্ভিসের কর্মী। বসুন্ধরার ভেতরে জরুরি লাইট জ্বালিয়ে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
শপিং মলের ৫ম তলায় জুয়েলারির দোকান। ৬ষ্ঠ তলায় মোবাইল, জুতা, ব্যাগ, ইলেক্ট্রিক পণ্যের দোকান। ৭ম তলায় কয়েকটি ব্র্যান্ডের কাপড়ের দোকান ও জুতার দোকান রয়েছে। ৮ম তলায় ফুড কোর্ড ও সিনেপ্লেক্স অবস্থিত। আর নবম তলায় জেনারেটরের সরঞ্জাম। শপিং মলের বেজমেন্টে একটি সুপার শপ রয়েছে।
/এআরআর/এনএস/এসটি/








