
না বুঝে যেখানে-সেখানে সন্তানের ফোন নম্বর দিয়ে তাকে প্রাণের ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছেন কিনা, বিষয়টি ভেবে দেখতে অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন সমাজবিজ্ঞানী ও শিশু অধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, যেকোনও জায়গায় ফোন নম্বর দেওয়ার আগে সেখানকার নিরাপত্তা বিষয়ে ভেবে নেওয়া অভিভাবকদেরই দায়িত্ব। সন্তান কোথায় নিরাপদ, সেটা বিবেচনা করে যেকোনও তথ্য দেওয়া উচিত। বিষয়গুলোকে সংবেদনশীল উল্লেখ করে তারা বলছেন, কোনও অভিভাবক সন্তানের খারাপ চাইতে পারেন না। সব সময় সতর্ক থাকার বিষয়টা মাথায় না থাকার কারণে অনেক সময় প্রাণহানির ঝুঁকিতেও পড়তে হয়।
বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়। সে উইলস লিটল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা মো. রমজান আলী একজন ক্যাবল ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রীর মা তানিয়া হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ওবায়দুল খান (২৯) নামে একব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। আসামি ওবায়দুল ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সের বৈশাখী টেইলার্সের কর্মচারী।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কিছুদিন আগে মায়ের সঙ্গে ইস্টার্ন মল্লিকার শপিং কমপ্লেক্সের বৈশাখী টেইলার্সে যায় ওই ছাত্রী। সেখানে ড্রেস অর্ডার করতে গিয়ে মোবাইল নম্বর দিলে তারপর থেকেই শুরু হয় মেয়েকে উত্যক্ত করা। টেইলার্সের কর্মচারী ওবায়দুল খানকে মোবাইলে কল করতে নিষেধ করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্যক্ত করা শুরু করে। সর্বশেষ বুধবার স্কুল থেকে বেরিয়ে এই শিক্ষার্থী ওভারব্রিজ পার হতে গেলে তার হাতে ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। মেয়েটি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ধরনের অসাবধানতা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে সন্তানদের ঠিকানা বা ফোন নম্বর বা চলাফেরার জায়গা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরেকটু সতর্কতা অবলম্বনের কথা জানান মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সন্তানকে অনিরাপদ করে তুলতে পারে এ রকম বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তার কেবল মেয়ে সন্তান নয়, ছেলে সন্তানকেও যেন বাইরের কেউ চট করে ফোনে যোগাযোগ না করতে পারে, সে চেষ্টা থাকতে হবে।’
একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের নিজেদের বোঝার সমস্যা আছে। বয়ঃসন্ধীকালে সন্তানদের এ ধরনের নানা উৎপাতের সৃষ্টি হলে সেগুলো নিয়ে তারা আমাদের বলতেও পারে না। কারণ, বললেই উল্টো বকা খেতে হয়। ফলে সে নিজের বুদ্ধিতে সামাল দিতে গিয়েও বিপদ পড়ে। অভিভাবকদের অভিভাবকত্ব নিয়ে শেখার আছে সেটাও আমরা জানি না।’
সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা একটা অস্থির সময় পার করছি। এ সময়ে নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তার জন্য সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। বাস ট্রেনের টিকেট কাউন্টার, ফেক্সিলোড, টেইলারের দোকান এসব জায়গায় সন্তানদের নিয়ে যাওয়া বা সেসব জায়গায় ফোন নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কোনওভাবেই এসব জায়গার কর্মচারীরা বা বাইরে থেকে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলে তারা মেয়ে বা ছেলে সন্তানের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহী না হয়ে উঠতে পারে বা পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘কোনও অভিভাবক নিজে জেনে-শুনে এমন করেন, তা কখনো নয়। কিন্তু একটি ছোট তথ্য কতবড় সর্বনাশ হয় তা তো আমাদের আশেপাশেই দেখা যাচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
/এমএনএইচ/আপ-এসটি








