ছিনতাইয়ের ফাঁদ মাইক্রোবাস!

রাফসান জানি
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১০:১৩আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৭:২৪

ছিনতাইয়ের ফাঁদ মাইক্রোবাস! রাজধানীতে কর্মব্যস্ত মানুষের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর অন্যতম সমস্যা হলো যানবাহনের স্বল্পতা। আর এই সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে নগরীতে ছিনতাইয়ের ফাঁদ পাতছে বেশ কিছু সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। মাইক্রোবাসে যাত্রী পরিবহনের নামে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে এই ছিনতাইকারী চক্র। একটু আরামে ও দ্রুত অফিস বা গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়ায় অনেকটা অসাবধানতার কারণে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ছেন যাত্রীরা। তবে পুলিশ বলছে আগের তুলনায় এ ধরনের ছিনতাইয়ের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে ।

নগরীর বিভিন্ন সড়কের মোড়ে অফিসের শুরুতে বা শেষে হাজারো মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পাবলিক পরিবহনের আশায় অপেক্ষা করতে হয় তাদের। গন্তব্যে পৌঁছাতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগায় ছিনতাইকারীরা। অপেক্ষমান যাত্রীদের সামনে মাইক্রোবাস নিয়ে ডাকাডাকি শুরু করে তারা। মাইক্রোবাসে লোক তোলা হয় টার্গেট করে। নির্ধারিত ব্যক্তি ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে যায় মাইক্রোবাস। ছেড়ে যায় গন্তব্যের পথে।  মাঝ পথে গিয়ে টের পাওয়া যায়, টার্গেট ব্যক্তি ছাড়া বাকি সবার ভয়ঙ্কর রূপ বেরিয়ে আসে।

প্রথমেই টার্গেট ব্যক্তিকে দুপাশ থেকে দুজন শক্ত করে ধরে বসে। পেছন থেকে বা পাশ থেকে আরেকজন মুখ চেপে ধরে চোখে ‘অজ্ঞান পার্টি’র মলম ও মরিচের গুড়া জাতীয় পাউডার মেখে দেয়। এতে টার্গেট ব্যক্তির চোখে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, অনেকটা বেহুশ হওয়ার মতো অবস্থা। একইসঙ্গে চলে শারীরিক নির্যাতন। ছোট ছোট রড জাতীয় বস্তু বা হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড়ে ও জয়েন্টে আঘাত করা হয়। এরপর কেড়ে নেওয়া হয় সঙ্গে থাকা মোবাইল, মানিব্যাগ, ল্যাপটপ সবকিছু। এছাড়া সঙ্গে থাকলে এটিএম কার্ড ও মোবাইল ব্যাংক থেকে টাকাও তুলে নেয় সংঘবদ্ধ চক্র। এরপর সুযোগ বোঝে মাইক্রোবাস থেকে ভোক্তভোগীকে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, প্রেসক্লাব, মতিঝিল, নিউমার্কেট এলাকায় বেশ কয়েকটি ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। এরা ছিনতাইয়ের কাজে বেশিরভাগ সময় কালো কাচের মাইক্রোবাস ব্যবহার করে। যাতে গাড়ির ভেতরে কি হচ্ছে বাইরে থেকে দেখা না যায়।

সম্প্রতি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে আহত হয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আদালত প্রতিবেদক প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস। গত বছরের ৯ নভেম্বর সকালে কাজলা থেকে গুলিস্তানে আসতে একটি মাইক্রোবাসে ওঠেন তিনি। গাড়িতে আরও পাঁচজন যাত্রী ছিল। আসলে তারা সবাই ছিল ছিনতাইকারী দলের সদস্য । গাড়িতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সবাই মিলে হাত,পা ও চোখ বেঁধে ফেলে প্রকাশের। হাত, পা ও বুকে হাতুড়ি জাতীয় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে। এরপর  বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা তার ২০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা বিভিন্নস্থানে ঘোরাঘুরির পর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি মাদ্রাসার উল্টো দিকের রাস্তায় প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাসকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় সাংবাদিক প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাসকে।

পথচারীরা এ ধরনের ঘটনার শিকার হলেও ঝামেলা এড়াতে থানায় কোনও মামলা করা হয় না বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন ভোক্তভোগী। মতিঝিল এলাকায় মাইক্রোবাসে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ব্যবসায়ী মনজুর মাহমুদ জানান, তিনি রাতে অফিস শেষে বাসায় ফেরার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু বাস না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে একটি মাইক্রোতে ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর শুরু হয় আক্রমণ। তাকে মারধর করে কেড়ে নেওয়া হয় সঙ্গে থাকা সবকিছু। এমনকি এটিএম কার্ডটিও নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। তবে পাসওয়ার্ড ভুল দেওয়ায় কোনও টাকা উত্তোলন করতে পারেনি দুর্বৃত্তরা। এ ব্যাপারে কোনও মামলা বা জিডি করেননি তিনি।

মনজুর মাহমুদ বলেন, ‘আমাকে হাতিরঝিলের পাশে ফেলে দিয়ে চলে যায় ওরা। তখন আশেপাশের কয়েকজন লোক একটা সিএনজিতে তুলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর বাসায় ফিরেছি। কিন্তু থানায় মামলা করা হয়নি। ঝামেলা এড়াতে পরিবার থেকে কোনও মামলা করতে দেওয়া হয়নি।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এধরনের ছিনতাইকারী চক্রকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। ইতোমধ্যে কিছু গ্রেফতারও হয়েছে। নগরীতে ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ।’

তিনি যাত্রীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘এসব ছিনতাই ঠেকাতে সবার আগে যাত্রীদের সচেতন হতে হবে। যেকোনও অপরিচিত মাইক্রোবাসে ওঠা যাবে না। কষ্ট হলেও পাবলিক পরিবহন যাতায়াতের জন্য সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।’

/আরজে/এপিএইচ/আপ-বিটি/

আরও পড়ুন:

প্রধানমন্ত্রী অনুতপ্ত! 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম