‘মালিকদের গাফিলতির কারণে আজ মানুষের দুর্ভোগ। সরকারের দোষ নাই। তারা সময় দিয়েছে বারবার। যতই সময় দিয়েছে মালিকরা তার অপব্যবহার করেছে। আদালত মালিকদের আবেদন নাকচ করেছে। আদালত আর কি করবে! মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হলো শ্রমিকরা।’ হাজারীবাগে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন কাজ দেখার সময় এক শ্রমিক এসব কথা বলেন।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে রাজধানীর হাজারীবাগের সব ট্যানারিতে (কারখানা) বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ চলছে। শনিবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা এই অভিযান পরিচালনা করছেন। এই কাজে সাহায্য করছেন তিতাস ও ডিপিডিসির কর্মকর্তারা। হাজারীবাগের ট্যানারির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মূল লাইনের বিদ্যুৎ থাকবে না বলে জানিয়েছে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাসা-বাড়ির নয়, শুধু কারখানার গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের কোনও দুর্ভোগ হবে না বলে জানিয়েছেন হাজারীবাগে গ্যাস-পানি ও বিদ্যুৎ বিছিন্নকারী কর্মচারীরা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শনিবার সকাল থেকে হাজারীবাগে পরিবেশ অধিদফতর এ কাজ করছে।
হাজারীবাগে ক্রিসেন্ট ট্যানারির শ্রমিক মো. কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'ঈদের আর দুই মাস বাকি। এখন ট্যানারিগুলি উচ্ছেদ করায় কোম্পানি আর বেতন দেবে না। এখন আমরা বউ-পোলাপান নিয়া কোথায় যাবো?’
কামরুজ্জামান জানান, তার জানা মতে হাজারীবাগে সরকারি অনুমোদন নেওয়া ১৫৪টি ও অনুমোদন ছাড়া আরও প্রায় ৩৬০টি ট্যানারি রয়েছে। ৫০ লাখের মতো মানুষ এখানে থাকে। তারা সবাই এখন কোনও না কোনও ভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
দিন ইসলাম নামে এক সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী কর্মচারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘কারখানাগুলো থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সুবিধার জন্য কেবল এলাকার মেইন লাইন থেকে আপাতত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে, এটা দ্রুত চালু হবে। এছাড়া পানি ও গ্যাসের লাইন কেবল কারখার ভেতর থেকেই বন্ধ করা হচ্ছে যাতে সাধারণ বাসিন্দাদের কোনও দুর্ভোগ না হয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা এ কে বৌদ্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাসায় বিদ্যুৎ নেই। আর বিদ্যুৎ না থাকার কারণে পানিও নেই। কিন্তু গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে না।’
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (ঢাকা মহানগর) সুকুমার বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সংশ্লিষ্ট তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি, ঢাকা ওয়াসাক সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দিনব্যাপী অভিযান চলবে।’
সরোয়ার চামড়া কারখানার তিন তলা থেকে ৫ তলা পর্যন্ত বাসা বাড়ি। কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারনে বাসা বাড়িটির সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদের গ্যাসের সংযোগও বিচ্ছিন্ন। ওই বাসার বাসিন্দা ফজলে রাব্বী বলেন, ‘আমরা কারখানাটির ওপরে একটি ফ্ল্যাটে থাকি। কিন্তু আমাদের গ্যাস বিদ্যুৎও সব বন্ধ হয়ে গেছে।’
উল্লেখ্য, হাজারীবাগের সব ট্যানারি ৬ এপ্রিলের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। আদালতের রায়ের কপি হাতে পেলেই অভিযানে নামার কথা জানিয়েছিল পরিবেশ অধিদফতর। সেই অভিযান শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। ৩ এপ্রিল গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বন্ধের বিষয়ে হাজারীবাগে মাইকিংও করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী ১০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে কী ধরনের কর্মসুচি দেবো সেটা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।’
ছবি: নাসিরুল ইসলাম, জাকিয়া আহমেদ ও রশিদ আল রুহানি।
/এফএস/
আরও পড়ুন-
হাজারীবাগের ট্যানারি পল্লীতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা!







