দশম জাতীয় সংসদের সাত অধিবেশনে কোরাম সংকটের কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪৭ কোটি ২০ লাখ ৩৩ হাজার ২০৪ টাকা। মোট ১০৩ কার্যদিবসের মধ্যে সাতটি অধিবেশন কোরাম সংকটে ছিল ৪৮ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। সংসদের প্রতি মিনিটের গড় ব্যয় ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৪৩৪ টাকা হিসাবে এই মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ কোটি টাকারও বেশি। রবিবার (৯ এপ্রিল) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে ‘পার্লামেন্টওয়াচ- দশম জাতীয় সংসদ: সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ অধিবেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
কোরাম হলো সংসদ অধিবেশন বসার ন্যূনতম যোগ্যতা। কোরাম গঠিত হয় ৬০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে। এই নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে ৬০ জন সদস্য উপস্থিত না থাকলে অধিবেশন বসতে পারে না। আর এতেই কোরাম সংকট তৈরি হয়।
দশম জাতীয় সংসদের সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ অধিবেশনে (সেপ্টেম্বর ২০১৫-ডিসেম্বর ২০১৬) মোট ১০৩ কার্যদিবসে সময় ব্যয় হয় ৩৪৫ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। এ হিসেবে গড়ে প্রতি কার্যদিবসে বৈঠকের স্থায়ীত্ব ছিল ৩ ঘণ্টা ২২ মিনিট। এর মধ্যে প্রতি কার্যদিবসে কোরাম সংকট ছিল গড়ে ২৮ মিনিটের। আর পুরো সাত অধিবেশনে কোরাম সংকটের কারণে সংসদের সময় নষ্ট হয়েছে ৪৮ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। এই সময় সংসদে ব্যয় হওয়া মোট সময়ের শতকরা ১২ ভাগ। এর অর্থ মূল্য দাঁড়ায় ৪৭ কোটি ২০ লাখ ৩৩ হাজার ২০৪ টাকা।
তবে অষ্টম সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে দশম সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশন পর্যন্ত প্রতি অধিবেশনে গড় কোরাম সংকটের পরিমাণ কমেছে। অষ্টম (২০০১-২০০৫), নবম(২০০৯-২০১৩) ও দশম(২০১৪-চলমান) সংসদে গড় কোরাম সংকট ছিল যথাক্রমে ৩৩ মিনিট, ৩০ মিনিট ও ২৯ মিনিট।
কোরাম সংকটের কারণে সংসদের ক্ষতি হলেও ক্রমেই এর পরিমাণ হ্রাস পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে টিআইবি। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অধিবেশনগুলোতে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, আইন প্রণয়নে ব্যয়িত সময়ের পরিমাণ বৃদ্ধি, কোরাম সংকট পূর্বের তুলনায় অপেক্ষাকৃত হ্রাস, সংসদ কার্যক্রমে নারী সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের বর্ধিত প্রচেষ্টা বিষয়গুলি সংসদীয় কার্যক্রমের সক্রিয়তা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরলেও প্রতিটি ক্ষেত্রেই অধিকতর অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে।’
/আরজে/টিআর/








