মুক্তচিন্তা বাধাগ্রস্ত হয় এমন সম্প্রচার নীতিমালা হবে না: ইনু

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৩ মে ২০১৭, ১৬:৫৮আপডেট : ০৩ মে ২০১৭, ২০:২৮

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের বর্তমান চিত্র বিষয়ক সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ অতিথিরা

প্রিন্ট মিডিয়া ছাড়াও দেশের টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও এবং অনলাইন গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেখতে চান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এজন্য মুক্তচিন্তাকে বাধাগ্রস্ত করবে এমন সম্প্রচার নীতিমালা করা হবে না বলে উল্লেখ করেন। বুধবার (৩ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের বর্তমান চিত্র বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মুক্তচিন্তার স্বাধীনতা দিতেই টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও সম্প্রচার নীতিমালা দরকার। মুক্তচিন্তার অবাধ স্বাধীনতা রেখেই সাইবার অপরাধ আইন ও  সম্প্রচার নীতিমালা তৈরি করবো। আইন তৈরি করা হবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই। এক তরফা কোনও আইন তৈরি করা হবে না।’

সাংবাদিকদের অভয় দিয়ে ইনু বলেন, গণমাধ্যম বা সাংবাদিকরা নন বরং তথ্য বিকৃতকারী, উস্কানিদাতা, ভুয়া সংবাদ উপস্থাপনকারী ও চক্রান্তকারীরাই চাপে এবং ভয়ের মধ্যে আছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীর হাত থেকে গণমাধ্যমের পবিত্রতা রক্ষা করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এখন পর্যন্ত যেসব পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে তার কোনোটিই সরকার বিরোধিতার কারণে নয়, বরং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কারণে বন্ধ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত যতগুলো গণমাধ্যম বন্ধ হয়েছে সেগুলো কেন, কী কারণে বন্ধ হয়েছে তার একটি প্রতিবেদন তৈরি করে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত যতগুলো পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে, তারা তথ্য প্রযুক্তি আইন অমান্য করেছে, ভুয়া ও উস্কানিমূলক খবর প্রকাশ করেছে। আর এসব অনিয়ম দমনের জন্য যদি সরকার দণ্ডবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়, তাহলে গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ করা হবে না। কোনও সম্পাদক যদি অনিয়ম করেন, মিথ্যাচার করেন, কারও চরিত্র হনন করেন তাহলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, কারাগারে পাঠানো হয়। এর মানে সম্পাদকদের দমন নয়, গণমাধ্যম দমন নয়। তারপরও আমাদের যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে, কোনও সংশোধনের প্রয়োজন মনে করেন তাহলে আমাদের বলবেন, আমরা নিজেদের সংশোধন করে নেবো।’

ইনু বলেন, ‘দেশে দুই হাজার ৮০০ পত্রিকা রয়েছে। এসব পত্রিকায় হাজার হাজার সাংবাদিক কাজ করেন। তাদের দমন করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে কিভাবে আরও ফেয়ার করা যায় সেটা নিয়ে কাজ করছি। এ পর্যন্ত যখন যেখানে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সাংবাদিকের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমি নিজেও খোঁজ-খবর নিয়ে কাজ করি। রাষ্ট্র নিজেই নিরপেক্ষভাবে সব সময় যাচাই করে, সাংবাদিকদের ওপর কোনও অন্যায় আচরণ হচ্ছে কিনা। অন্যায় হলেই সঙ্গে সঙ্গে তা সংশোধন করে নেওয়া হয়।’

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নষ্ট হওয়ার পেছনে সাইবার অপরাধী ও জঙ্গিদের হাত রয়েছে উল্লেখ করে ইনু বলেন, সাইবার অপরাধী, জঙ্গি ও জঙ্গি সমর্থনকারীদের কারণেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নষ্ট হচ্ছে। আর এ জন্য সাইবার অপরাধ ও জঙ্গিগোষ্ঠী থেকে গণমাধ্যমকে রক্ষা করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, সমকাল সম্পাদক গোলাম সরওয়ার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এর সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ।

 /আরএআর/এসএমএ/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী