‘ধর্ষণ সংবাদ’ প্রকাশে সতর্ক প্রস্তুতি নেই গণমাধ্যমের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১০ আগস্ট ২০১৭, ২০:০৫আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৭, ২০:৪৯

বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকি (ছবি- সাজ্জাদ হোসেন) গণমাধ্যমে ‘ধর্ষণ সংবাদ’ পরিবেশনে ধরণে পরিবর্তন এসেছে। একটা সময় গণমাধ্যমে ধর্ষণের শিকার নারী নাম-পরিচয়-ছবি প্রকাশ হলেও এখন তা হয় না। তা সত্ত্বেও যেভাবে এসব সংবাদ পরিবেশন করা হয়, তাতে ধর্ষণের শিকার নারী ও তার পরিবার চিহ্নিত হয়ে যান। ধর্ষণ সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের সতর্ক প্রস্তুতির অভাবেই এমনটি ঘটে থাকে। এই পরিস্থিতির উত্তরণ প্রয়োজন। ধর্ষণ সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমকে আরও সতর্ক হতে হবে। তাহলে এর একটি প্রভাব সার্বিকভাবে পড়বে।
বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বিকালে বাংলা ট্রিবিউন আয়োজিত ‘হ্যাঁ, বলতে দ্বিধা হচ্ছে’ শীর্ষক বৈঠকিতে এসব কথা বলেন বক্তারা। আইনের যথাযথ ব্যবহার না করতে পারা, ফরেনসিক টেস্টের সীমাবদ্ধতা, প্রভাবশালীদের চাপ ও সামাজিক কারণে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলেও অপরাধী শাস্তি না পাওয়া এবং সম্প্রতি ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা ও ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৈঠকিটি আয়োজন করা হয়।
মুন্নী সাহা (ছবি- নাসিরুল হক) মুন্নী সাহার সঞ্চলনায় বৈঠকিতে অংশ নেন পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সহেলী ফেরদৌস, সমাজকর্মী শিরিন হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট ড. এস এম আতিকুর রহমান, পূর্ণিমা ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি পূর্ণিমা, বাংলা ট্রিবিউনের প্ল্যানিং এডিটর নজরুল কবীর ও চিফ রিপোর্টার উদিসা ইসলাম।
পূর্ণিমা ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি পূর্ণিমা (ছবি- নাসিরুল হক) বৈঠকিতে ২০০১ সালে ধর্ষণের শিকার হওয়া পূর্ণিমা তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সেই ঘটনার কথা বলেছেন, সঙ্গে বলেছেন এ ঘটনা নিয়ে তার গত ১৭ বছরের অভিজ্ঞতার কথা। ধর্ষণের ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক কারণে কেউ মুখ খুলতে কিংবা জনসম্মুখে আসতে দ্বিধা করলেও সেই দ্বিধা কাটিয়ে উঠেছেন পূর্ণিমা। নিজে ট্রাস্টি হিসেবে এই বিষয়ে মানুষের সচেতনতা তৈরিতে তৈরি করেছেন পূর্ণিমা ফাউন্ডেশন।
পূর্ণিমা বলেন, ‘অস্ত্রের মুখে আমাকে ধর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। আশপাশের মানুষ দেখলেও ঠেকাতে আসেনি। সেই অভিজ্ঞতার কথা আমি ভুলে যেতে চাই। কিন্তু একটা শব্দ ঘুরেফিরে বারবার সামনে চলে আসে— ধর্ষিতা। মানুষ আমাকে জিজ্ঞাসা করে আমার লজ্জা করে কিনা। কিন্তু আমার লজ্জা কিসের, লজ্জা বাংলাদেশের। যেখানেই যাই, শুনতে হয় আমি ধর্ষিতা। ধর্ষিতা, ধর্ষণ— এসব শব্দ শুনতে শুনতে আমার পরিবারও বিপর্যস্ত।’
পূর্ণিমা বলেন, ‘‘কেউ একজন ধর্ষণের শিকার হলে সবাই ‘ধর্ষিতা’ ‘ধর্ষিতা’ বলে অস্থির হয়ে যায়। কিন্তু এই শব্দ বাদ দিলে ধর্ষণের শিকার মানুষটি একটু স্বাভাবিক হতে পারে। ধর্ষিতা শব্দটি খুবই পীড়াদায়ক। ধর্ষণের শিকার হতে হয় একবার, কিন্তু ‘ধর্ষিতা’ শব্দটি শুনতে হয় বারবার।’
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সহেলী ফেরদৌস (ছবি- নাসিরুল হক) পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সহেলী ফেরদৌস বৈঠকিতে বলেন, ‘আমি আগে নারী, পরে পুলিশ। এসব ঘটনায় দেখা যায়, ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও তদন্তের সময় বারবার ঘটনার বিবরণ দিতে হয়। বারবার ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ঘটনার কষ্টের কথা ভুক্তভোগীকে বারবার মনে করতে হয়। তবে এখন প্রতিটি থানায় নারী সহায়তা কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। সেখানে এজাতীয় কেস দেখার জন্য নারী পুলিশ কর্মকর্তা থাকেন। ফলে ভুক্তভোগী নারীরা একটু স্বস্তি বোধ করেন। আর ঢাকায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আছে। সেখানে নারী পুলিশ অফিসাররা মামলা দেখেন, তদন্ত করেন। কাউন্সিলেরও ব্যবস্থা সেখানে রয়েছে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের আদলে সারাদেশের উইম্যান হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে। অবশ্য নারী পুলিশ অফিসার কম থাকায় সারাদেশে এটি ব্যাপক আকারে করা যায়নি এখনও।’
পুলিশ মানে তো পুলিশ, সেখানে নারী পুলিশ কর্মকতা কেন প্রয়োজন— এমন প্রশ্ন করেন মুন্নি সাহা। জবাবে সহেলী ফেরদৌস বলেন, ‘ধর্ষণের জন্য শুধু নয়, সব ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা নারী পুলিশ দেখলে স্বস্তি বোধ করেন। আমরা নারী বা পুলিশ বলে ভেদাভেদ করি না। কিন্তু ভুক্তভোগীদের স্বস্তির কথা ভেবে নারী পুলিশ রাখা হয়।’
ধর্ষণের বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা, বিচার দেরি হওয়া এসব প্রসঙ্গে সহেলী ফেরদৌস বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়ার একটি পার্ট পুলিশ। প্রায় ছয় হাজার মামলা হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক যে মানুষ পুলিশের কাছে আসছে মামলার করতে। মানুষ বিচার চাইছে। এসব মামলায় পাঁচ হাজার মামলার চার্জশিট পুলিশ দিয়েছে। এরপর দায়িত্ব আমাদের না। এরপর বাকি দায়িত্ব আদালতের। এই লম্বা প্রসেসের কারণে সাক্ষীরা আসতে আর চাচ্ছেন না। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সমঝোতা হয়ে যায়। আবার আগে সাক্ষীদের একটা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হতো, এখন আর হয় না। ফলে সাক্ষীরা আসতে চান না অনেক ক্ষেত্রে। তদন্তের জন্য বিচার হচ্ছে না, এজন্য পুলিশকে একক ভাবে দায়ী করা যাবে না।’
আলামত সংগ্রহে পুলিশের দক্ষতার অভাব রয়েছে বলে মত দেন সমাজকর্মী শিরীন হক। এসময় সহেলী ফেরদৌস বলেন, ‘অনেক মামলা, অনেক আলামত। এত আলামত সংরক্ষণের সক্ষমতা আছে কিনা সেটি বিবেচনা করার দরকার আছে। ১০-১১ বছর মামলা চলে। সেই মামলার আলামত কী হবে, সেটি নিয়ে পুলিশকে চিন্তায় থাকতে হয়।’
সমাজকর্মী শিরিন হক (ছবি- নাসিরুল হক) ধর্ষণের শিকার নারীদের অনেক বেশি সহায়তা প্রয়োজন বলে বৈঠকিতে মত দেন সমাজকর্মী শিরিন হক। তিনি বলেন, ‘পরিবারের সহায়তা আগে দরকার, এরপর আশেপাশের মানুষের দায়িত্ব। ৩৫ বছর ধরে কথা বলে যাচ্ছি। কিন্তু কী পরিবর্তন হলো? এ জন্য মাঝে মাঝে হতাশাও কাজ করে।’
এত বছরের আন্দোলনে কোথায় ভুল ছিল— মুন্নী সাহার এক প্রশ্নের জবাবে শিরিন হক বলেন, ‘আমাদেরও হয়তো আরও কিছু করার ছিল, করতে পারিনি। কৌশলগত ভুল ছিল হয়তো।’ তিনি বলেন, ‘‘ভাষাগত বিষয়ে সমস্যা রয়েছে। ভুক্তভোগীকে আমরা ধর্ষিতা বলে চিহ্নিত করে ফেলি। গণমাধ্যমও কোনও কোনও ক্ষেত্রে এ ভুল করে ফেলে। অনেক সময় ধর্ষণের সংবাদ এমনভাবে পরিবেশন করা হয় যে ধর্ষণের শিকার নারীর জন্যই তা অবমাননাকর। মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ এলেই রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্য শুরু করেন ‘৩০ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত’ দিয়ে। এত বছরেও আমরা এই ভাষার প্রয়োগ বন্ধ করতে পারিনি। ২৬ মার্চ কিংবা ১৬ ডিসেম্বর এলে এটি আরও বেড়ে যায়। ‘ধর্ষিতা’ শব্দ ব্যবহার না করে নির্যাতিত বললে ভুক্তভোগী কিছুটা রেহাই পাবে। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা দরকার। নারীকে চিনুন, শ্রদ্ধা করুন।’’
বিএসএমএমইউয়ের মনোরোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট ড. এস এম আতিকুর রহমান (ছবি- নাসিরুল হক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মনোরোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট ড. এস এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার হার অনেক বেশি। এই বয়সী নারীরা ধর্ষণের শিকার হলে তাদের ওপর প্রভাবও পড়ে বেশি। সাধারণভাবেই মানুষের মস্তিষ্কে যেকোনও ঘটনাই জমা থাকে— সেটা সুখের হোক, আর দুঃখের হোক। দুঃখের ঘটনাগুলোর স্মৃতি এক ধরনের ট্রমা তৈরি করে। কম বয়সীরা এ কারণে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ধর্ষণের ঘটনায় লজ্জা আমাদের সমাজের, কিন্তু আমাদের দায়িত্বও আছে। বলতে আসলেই দ্বিধা হচ্ছে।’
মানসিক শিক্ষার প্রয়োজন আছে বলে মত দেন ড. আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সিজফ্রেনিয়া রোগীদের সমাজে পাগল বলা হয়। এটি কিন্তু ঠিক নয়। আমরা চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টার পর এই ক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন আনতে পেরেছি। ঠিক একইরকমভাবে ধর্ষণের শিকার নারীর ক্ষেত্রেও ধর্ষিতা শব্দটি ব্যবহার করা উচিত না।’
বাংলা ট্রিবিউনের প্রধান প্রতিবেদক উদিসা ইসলাম (ছবি- নাসিরুল হক) বাংলা ট্রিবিউনের প্রধান প্রতিবেদক উদিসা ইসলাম বলেন, ‘গণমাধ্যম শুরুতে খবর নিলেও পরে ভুলে যায়। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী কিভাবে জীবনযাপন করছেন, এটার খোঁজ আর কেউ রাখে না। অনেকে আবার ধর্ষণের শিকার নারীর দোষ খুঁজতে থাকেন। কিন্তু শিশুরাও তো ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। তাদের কী দোষ?’
পরিবর্তন কোন জায়গায় এসেছে— সেই প্রশ্ন তোলন উদিসা ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বনানীর ধর্ষণের ঘটনার মামলা নিতেই পুলিশ তিনদিন সময় নিলো। তাহলে পরিবর্তন কোথায় আসলো? গণমাধ্যমে ধর্ষণের শিকার নারীদের যে ছবি ছাপা হয়, সেই ছবি থেকেই তাদের চিহ্নিত করা যায়। অনেক সংবাদেই ধর্ষণের শিকার নারীর নাম-পরিচয় বা ঠিকানা থাকে না। কিন্তু এমনভাবে খবর পরিবেশন করা হয় যে তাদের বাড়ির ঠিকানাও চিহ্নিত হয়ে যায়। ধর্ষণের শিকার যে নারী, তিনিও চিহ্নিত হয়ে যান। তাহলে কৌশল কোথায় বদলালো? গণমাধ্যমকে এসব বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।’
বাংলা ট্রিবিউনের প্ল্যানিং এডিটর নজরুল কবির (ছবি- নাসিরুল হক) বাংলা ট্রিবিউনের প্ল্যানিং এডিটর নজরুল কবীর বলেন, ‘সেই সময়ে পূর্ণিমার ছবি ছাপা হয়েছিল পত্রিকায়। পরবর্তী সময়ে সংশোধন এসেছে। গণমাধ্যমে ধর্ষণ সংবাদ পরিবেশনে এখন ছবি বা নাম প্রকাশ করা হয় না। গণমাধ্যম আগের চেয়ে অনেক সচেতেন হয়েছে। তবুও আরও অনেক দূর যাওয়ার আছে।’ সদিচ্ছার অভাব রাষ্ট্রের পরতে পরতে আছে বলে মত দেন নজরুল কবীর।

বৈঠকিটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এটিএন নিউজে। এছাড়া বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক পেজ থেকেও লাইভ সম্প্রচার করা হয় বৈঠকি।

আরও পড়ুন-

‘আমার লজ্জা কিসের, লজ্জা বাংলাদেশের’

‘ধর্ষণ মামলার আলামত সংগ্রহে পুলিশের দক্ষতার অভাব রয়েছে’

/সিএ/টিআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম