স্যুয়ারেজ লাইনে কোরবানি পশুর বর্জ্য

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২২:০৫আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২৩:৩৫

 

স্যুয়ারেজ লাইনে কোরবানি পশুর বর্জ্য রাজধানী ঢাকার কোরবানি পশুর অধিকাংশ বর্জ্য যাচ্ছে স্যুয়ারেজ লাইনে। জবাইকৃত পশুর মল-মূত্র আশপাশের স্যুয়ারেজ লাইনে ফেলা হচ্ছে। খোদ সিটি করপোরেশনের পশু জবাই দেওয়ার নির্ধারিত স্থান থেকেও ড্রেনে বর্জ্য ফেলতে দেখা গেছে। এতে অধিকাংশ লাইন আবর্জনা আটকে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

শনিবার ঈদুল আজহার দিন সকালে প্রজেক্ট দক্ষিণ বনশ্রীর ১৬ নম্বর সড়কে দেখা গেছে, পশু জবাই দেওয়ার পর বর্জ্য ম্যানহোলের মাধ্যমে স্যুয়ারেজ লাইলে ফেলে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বৃষ্টির পানিতে মিশিয়ে দিয়েছেন। আবার কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে এমন জায়গায় পশু জবাই দেওয়া হচ্ছে, যেখান থেকে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের পক্ষে বর্জ্য সরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

দক্ষিণ বনশ্রীর ১৬ নম্বর সড়কে এই প্রতিবেদককে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কোরবানি দাতা বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে পশুর বর্জ্য কোথায় রাখবো? এখানে কোরবানি দেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত কোনও স্থান নেই। করপোরেশনের লোকেরা আসতে আসতে বৃষ্টির পানিতে পুরো রাস্তায় বর্জ্য ছড়িয়ে যাবে। সে কারণে ড্রেনে ফেলে দিয়েছি। এখন পানির সঙ্গে সব চলে যাবে।’

সকালের বৃষ্টির পর একই চিত্র দেখা গেছে তীব্র রোদের দুপুরেও। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুরান ঢাকার, বংশাল রোড, নর্থ সাউথ রোড, নবাব ইউসূফ রোড, কাজী আলাউদ্দিন রোড, নাজিরা বাজার, নবাবপুর রোড, গোয়ালঘাট লেন, ককরাইল, ফকিরাপুল, আরামবাগ, খিলগাঁও, মগবাজার, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে রাস্তার কোথাও ময়লা আবর্জনা নেই। দু একটি স্থানে দেখা গেলেও স্থানীয় বাড়ি মালিক ও কোরবানি দাতারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য সরিয়ে ফেলছেন। এসব এলাকায় সড়কের পাশে পশুর রক্তমাখা পানি দেখা গেলেও আশপাশের ড্রেনগুলোতে দেখা গেছে পশুর গোবর ও অন্যান্য বর্জ্য। কোরবানিদাতারা পশুর রক্তের পাশাপাশি বর্জ্যও পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ড্রেনে ফেলে দিয়েছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মেসবাহুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা নগরবাসীকে পশু জবাই দেওয়ার পর বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে রাখতে ৫ লক্ষাধিক পলিব্যাগ দিয়েছি। পাশাপাশি নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই ধোয়ার জন্য সাড়ে ৫০০ এর মতো স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে নগরীকে বর্জ্য মুক্ত করতে শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করেছি। এখন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজ হচ্ছে। ড্রেনে পশুর রক্ত গেলে সমস্যা হবে না, কিন্তু গোবর ফেলা হলে সমস্যা হবে। জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। ম্যানহোল দিয়ে স্যুয়ারেজের পানি রাস্তায় চলে আসবে।’

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকাল থেকেই আমাদের কর্মীরা কাজ শুরু করেছে। ড্রেনে যাতে ময়লা না পড়ে সে জন্য নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। আমরা তাদেরকে সচেতন করতে চেষ্টা করছি। পোস্টার, ফেস্টুন, লিফলেট, মাইকিং, সভা-সমাবেশ ও মসজিদের খুতবায় বয়ানসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা করেছি। এর পরেও যদি কেউ ড্রেনে পশুর বর্জ্য ফেলে তাহলে তো সমস্যা হবে’

এদিকে সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, এ বছর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোরবানি পশু জবাই হবে। এ থেকে বর্জ্য উৎপাদন হবে ২৫ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে ১৮ হাজার ও উত্তর সিটিতে ৭ হাজার। এসব বর্জ্য অপসারণের জন্য ১৭ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠে রয়েছে।

দক্ষিণ বনশ্রীর সাপলা ভবন এলাকার বাসিন্দা হাজী গিয়াস উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘সকালের বৃষ্টির পর যা দেখলাম তাতে মনে হয়েছে মানুষের বিবেক একেবারেই লোপ পেয়েছে। কয়েকজন মানুষকে অনুরোধ করার পরেও তারা পানি দিয়ে ধুইয়ে পশুর বর্জ্য ড্রেনে পেলে দিয়েছেন।’ একটি রাস্তা দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই রাস্তায় অন্তত ১৫টি গরু জবাই হয়েছে। এখন গিয়ে দেখেন একটা গরুর বর্জ্যও নেই। সব ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’

নবাবপুর রোডে গিয়ে দেখা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পশু জবাই দেওয়ার নির্ধারিত একটি স্থানে ১০টির বেশি পশু জবাই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর পাশে কোনও বর্জ্য নেই। সিটি করপোরেশনের কোনও গাড়ি বা কর্মীও এখন পর্যন্ত আসেনি।

ইলিয়াস নামের একজন কসাই বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘পানি দিয়ে সব ধুইয়ে ড্রেনে ফেলে দিলে বর্জ্য থাকবে কিভাবে?’

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় কোরবানির পশু থেকে যেসব বর্জ্য হয় তার এক তৃতীয়াংশ বর্জ্য ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়। কোরবানি দাতারা তাদের বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখতে এ কাজটি করে থাকেন।’

এই ব্যবসায়ী ও সিটি করপোরেশনের হিসাব মতে এবছর যদি রাজধানীতে ২৫ হাজার টন কোরবানি পশুর বর্জ্য উৎপাদন হয় তাহলে এ থেকে অন্তত ৮ হাজার টন বর্জ্য ড্রেনে যাবে। এর মধ্যে ৫ হাজার টন বর্জ্যও যদি ড্রেনে যায় তাহলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়বে।

বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজধানী জুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ জন্য ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থাকেই বেশি দায়ী করা হয়। বলা হয়ে থাকে অধিকাংশ ড্রেনে ময়লা জমে অকেজো হয়ে পড়েছে। এর পেছনে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) নির্বাহী সদস্য ও নগর বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নগরবাসীর অসচেতনতার ফলে প্রতি ঈদুল আজহায় কোরবানি পশুর বর্জ্যের বিশাল একটি অংশ ড্রেনে চলে যায়। ফলে অধিকাংশ ড্রেন অকেজো হয়ে পড়ে। পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জলাবদ্ধতার কারণগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।’

আরও পড়তে পারেন:

বর্জ্য অপসারণে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে মেয়র খোকনের মনিটরিং

শিশু-কিশোরদের দিয়ে কোরবানির পশু জবাই কতটা যৌক্তিক?

পুরান ঢাকায় অসহায় মানুষের জন্য কোরবানি

কু‌ড়িগ্রা‌মে মাংস ও পোলা‌ওয়ের চাল পেলো তিন শতা‌ধিক প‌রিবা‌র

লালমনিরহাটের চার শতাধিক বানভাসি পরিবারের মাঝে খাদ্য উপকরণ বিতরণ

/এসএস/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম