রোকেয়া দিবস আজ

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
০৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:১৩আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:২২

বেগম-রোকেয়া আজ ৯ ডিসেম্বর, বেগম রোকেয়া দিবস। বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর থানার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও তিনি নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে গেছেন। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এজন্য দিনটি রোকেয়া দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোকেয়া পদক-২০১৭ প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি থাকবেন। এ বছর রোকেয়া পদক পেয়েছেন চিত্রশিল্পী সুরাইয়া রহমান, লেখক শোভা রানী ত্রিপুরা, সাংবাদিক মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদ (মরণোত্তর), সংগঠক মাজেদা শওকত আলী, সমাজকর্মী মাসুদা ফারুক রত্না। আজ তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

এছাড়া বাংলা একাডেমি আগামীকাল রবিবার বিকাল ৪টায় কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন,  ‘বেগম রোকেয়া নারীমুক্তি,  সমাজ সংস্কার ও প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ। কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিধি-নিষেধের অন্ধকার যুগে শৃঙ্খলিত বাঙালি মুসলিম নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি পর্দার অন্তরালে থেকেই নারীশিক্ষা বিস্তারে প্রয়াসী হন এবং মুসলিম মেয়েদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তির পথ সুগম করেন।’

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন,  ‘বেগম রোকেয়া ছিলেন নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণের অগ্রদূত। বিংশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলিমদের নবজাগরণের সূচনালগ্নে নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন। সাহিত্যচর্চা, সংগঠন পরিচালনা ও শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া সমাজ সংস্কারে এগিয়ে আসেন এবং স্থাপন করেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বেগম রোকেয়ার আদর্শ, সাহস, কর্মময় জীবন নারী সমাজের এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস।’

বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান রংপুরের পায়রাবন্দে দিবসটি পালন উপলক্ষে বেগম রোকেয়া ফোরাম দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

১৮৯৮ সালে বেগম রোকেয়ার বিয়ে হয় খান বাহাদুর সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে। তিনি ছিলেন উর্দুভাষী। তারপরও তিনি রোকেয়াকে শিক্ষা ও সাহিত্য সাধনায় অনুপ্রেরণা দিতেন। ১৯০২ সালে রোকেয়া লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘পিপাসা’ রচনার মধ্য দিয়ে। ১৯০৯ সালে সাখাওয়াত হোসেন মারা যান।

স্বামীর মৃত্যুর পাঁচ মাসের মাথায় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিন’ নামে একটি ইসলামি নারী সংঘঠনেরও প্রতিষ্ঠাতা। তার উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ হলো পিপাসা (১৯০২), মতিচূর (১৯০৪), সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৮), সওগাত (১৯১৮), পদ্মরাগ (১৯২৪) ও অবরোধবাসিনী (১৯৩১)। খবর বাসস।

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম