সমুদ্রের ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সমীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকার দলের দিদারুল আলমের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদকে এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী তার জবাবে সমুদ্র ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সমুদ্রের ঢেউয়ের শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি উন্নত বিশ্বের কিছু দেশে এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই প্রযুক্তি ব্যয়বহুল ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই ও জনপ্রিয় নয়। তবে সমুদ্রের ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে লক্ষ্যে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে।’
বিদ্যুতের দাম বাড়ানো বিষয়ে জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে। কমিশনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে গ্রাহকদের আর্থিক সক্ষমতা বিচার করে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অহেতুক বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে গ্রাহককে কষ্ট দেওয়া সরকারের উদ্দেশ্য নয়।’
সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি না বলে সমন্বয় বলা ভালো। বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের উৎপাদন ব্যয় ৭ টাকার বেশি। আর বিক্রি হচ্ছে দুই টাকা দরে। এই ঘাটতি ধীরে ধীরে সমন্বয় করতে হবে। এবারে, ওপরের দিকে যারা ৪০০ কিলোওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে কিছু সমন্বয় হয়েছে।’
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে
সংসদে অন্য এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে এখন মাথাপিছু বিদ্যুতের পরিমাণ ১৭ হাজার কিলোওয়াট। আর আমরা ব্যবহার করি ৪৫০ কিলোওয়াট। আমাদের মধ্যম আয়ের দেশে যেতে হলে মাথাপিছু ২২শ কিলোওয়াট বিদ্যুত ব্যবহার করতে হবে। আর এজন্য আমাদের বহুদূর যেতে হবে। বিদ্যুতের চাহিদার শেষ নেই। আজ যে চাহিদা হচ্ছে, পরে তা দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। কাজেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে হলে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।’
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, গ্যাসের চাহিদার সঙ্গে উৎপাদন সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় বর্তমানে আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি (এলপিজি) সরবরাহের কার্যক্রম নিয়েছে।
আরও পড়ুন-
কখনও কখনও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে: ইনু








