আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। এরইমধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) -এর ডি ব্লকের নিচতলায় দলে দলে ভিড় করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সোমবারও (৪ মার্চ) সকাল থেকে নেতাকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিএসএমএমইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া রবিবার (৩ মার্চ) রাতে নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দোতলায় কার্ডিয়াক ইউনিটের সিসিইউ-এর বারান্দায় যেখানে রোগীদের স্বজনদের বসার জায়গা, সোমবার সকালে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ কারণে রোগীদের আত্মীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, আমাদেরকে দোতলায় থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। ভেতরে রোগীর কখন কী লাগবে বুঝতে পারছি না। খুব অসুবিধায় আছি।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, প্রিয় নেতা কেমন আছেন, সেটা জানার জন্যই তারা হাসপাতালের সামনে এসে অপেক্ষা করছেন।
বিএসএমএমইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের কার্ডিয়াক ইউনিটে ভর্তি প্রত্যেক রোগীর অবস্থা খুবই সেনসিটিভ। তাদের প্রত্যেকেরই ইনফেকশনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই নেতাকর্মীরা কেউই হাসপাতালে এসে ভিড় করবেন না। তার জন্য সবাই নিজ বাসায় থেকে দোয়া করুন।’
দলীয় নেতাকর্মীদেরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় রবিবার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসক দল ঢাকায় আসেন। সোমবার দুপুরে এসেছেন ভারতের প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন ডা. দেবীশেঠি।
বিএসএমএমইউ-এর কার্ডিওলজিস্ট ডা. হারিসুল হক বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে পরামর্শ করি। এরই অংশ হিসেবে ডা. দেবীশেঠি এসেছেন। তিনি কার্ডিয়াক সার্জন। নতুন করে অস্ত্রোপচার করা লাগবে কিনা, তিনি সেই বিষয়টি দেখবেন।’
উল্লেখ্য, রবিবার রাত সাড়ে তিনটায় নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপর তাকে সঙ্গে সঙ্গে বিএসএমএমইউ-তে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়েছে। গতকালই একটিতে রিং পরানো হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বর্তমানে কার্ডিয়াক বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ আলী আহসানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।








