‘অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার চিন্তার বিষয়’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:২৫, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩২, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

জাতীয় সংসদ (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে অনেক রোগীর অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হচ্ছে। পরে সেই রোগীর আর কোনও অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। ফলে ওই রোগী একসময় মারা যান। এজন্য আমরা ব্যবসায়ীদের একটি নির্দেশনা দেবো; যাতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করা হয়।’

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সংসদে রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী এ প্রশ্নের জবাব দেন।

সামিল উদ্দিন আহমদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘নকল ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির অপরাধে এবছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত ৯৯০টি মামলা দায়ের করেছেন। অপরাধে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায়, ২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ২৯টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে।’ প্রতিমন্ত্রী জানান, ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ওষুধ আইনকে যুগোপযোগী করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

আফজাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমুলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমানে সারাদেশে ১৩ হাজার ৭৪৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে।’

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু ও গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ প্রশ্ন করতে গিয়ে অভিযোগ করেন, ‘উপজেলায় চিকিৎসকদের ২৬টি পদ থাকলেও কর্মরত থাকেন মাত্র ৩-৫ জন। তারাও আবার জেলা ও ঢাকায় প্রেষণে থাকেন।’

জবাবে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকের সংকট আছে। সরকার একটি নির্দেশনা জারি করেছে যে, নতুন নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলকভাবে দুই বছর উপজেলায় সেবা দিতে হবে।’

বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে গত ৫ নভেম্বর থেকে এখনপর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৯৭ হাজার ৯ জন। এতে মারা গেছেন ১২২ জন।’

আবদুল লতিফের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিশুদের চিকিৎসা সেবা বাড়ানোর জন্য বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যার শিশু হাসাপাতাল তৈরির পরিকল্পনা সরকারের আছে। এর মধ্যে একটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।’

এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন প্র্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নৌযান নিবন্ধনের জন্য নিবন্ধকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আগে মাত্র চারজন নিবন্ধকের মাধ্যমে নিবন্ধন করা হতো। এই সংখ্যা বাড়িয়ে ভৈরব ও চট্টগ্রামে অফিস খোলা হয়েছে। রাজশাহী, চাঁদপুর, কক্সবাজার, পটুয়াখালী, ভোলা, রাঙ্গামাটি ও সুনামগঞ্জে নিবন্ধন অফিস স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।’

নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে ১৯৭৬ সাল থেকে নৌ-দুর্ঘটনার তথ্য রেকর্ড করা হচ্ছে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মারা গেছেন ৪ হাজার ৭১১ জন। দুর্ঘটনায় আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা যথাক্রমে ৫৩৯ ও ৪৮২ জন।

নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ছোট–বড় নদীগুলো খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার একটি ড্রেজিং মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে। এর আওতায় ১৭৮টি নদী খনন করে ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ নাব্য করা হবে।

প্রশ্নোত্তরের আগে বিকাল সোয়া চারটার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে অধিবেশন শুরু হয়।

 

/ইএইচএস/এমএ/

লাইভ

টপ