সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৪১, নভেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০১, নভেম্বর ২২, ২০১৯

যথাযথ মর্যাদায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হয়েছে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর)। এ উপলক্ষে দিনের শুরুতে দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটির মসজিদগুলোতে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সেনাকুঞ্জে বিকালে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ‘নবনির্মিত সেনাকুঞ্জ ভবন’ উদ্বোধন করেন। এই সংবর্ধনায় সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা ছাড়াও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও দূতাবাসগুলোর কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী সেনাকুঞ্জে পৌঁছালে তার নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টাসহ সেনাবাহিনীর প্রধান, নৌবাহিনীর প্রধান, বিমানবাহিনীর প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) সস্ত্রীক তাকে স্বাগত জানান।
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে পৃথকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে শহীদদের স্মরণে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান তিন বাহিনী প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।
মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মরণে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল আবু মোজাফ্ফর মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে যান। সেখানে সেনাবাহিনীর প্রধান, নৌবাহিনীর প্রধান ও বিমানবাহিনীর প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে তারা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্ধারিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। তিনি তাদের হাতে সম্মানী চেক এবং উপহার তুলে দেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ৯ জন সেনা, ২ জন নৌ এবং ৩ জন বিমানবাহিনীর সদস্যকে ২০১৮-২০১৯ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করেন। ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠর নিকটাত্মীয়সহ ১০১ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনায় যোগ দেন।
দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ-জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। বিকালে ও সন্ধ্যায় সাভার, কুমিল্লা, বরিশাল, কক্সবাজার, বগুড়া, সিলেট, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, যশোর, রংপুর, রাজেন্দ্রপুর ও খুলনা সেনানিবাস ও ঘাঁটিতে সংশ্লিষ্ট এরিয়া সদর দফতরের ব্যবস্থাপনায় ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

/জেইউ/এইচআই/

লাইভ

টপ