সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: শশী থারুর (ভিডিও)

Send
জিয়াদ রোহান
প্রকাশিত : ১৯:৩০, নভেম্বর ২৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৮, নভেম্বর ২৯, ২০১৯


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি মনে করেন ভারতীয় রাজনীতিবিদ, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক ও পুরস্কারজয়ী লেখক শশী থারুর। তিনি বলেন, ‘এখন কেউ চাইলেই মনগড়া কিছু ভেবে পাঁচ মিনিটের মধ্যে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে, ডাহা মিথ্যাও ছড়িয়ে দিতে পারে। এটাই গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত শঙ্কার জায়গা। মিথ্যার জালে আটকে পড়া মানুষের জন্য এখানে সত্যিটা বোঝা কঠিন হয়ে যায়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শশী থারুর দারুণ জনপ্রিয়। ঢাকা লিট ফেস্টের নবম আসরে অংশ নিতে এসেছিলেন তিনি। তখন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে তার আলাপচারিতায় উঠে এসেছে রাজনীতিতে শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ বেড়ে যাওয়া, গণতান্ত্রিক চর্চার অবক্ষয় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে একমত শশী থারুর। তিনি মনে করেন, মূলধারার গণমাধ্যমের মতো যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া, মিথ্যা তথ্য ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দেওয়া দিনশেষে গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। তার কথায়, ‘সংবাদপত্রে আগে কী হতো দেখুন– কেউ যদি কিছু লিখতো তাহলে সম্পাদককে দেখিয়ে নিতে হতো অথবা সহ-সম্পাদক কিংবা কপি এডিটরকে দেখানোর পরেই শেষ পর্যন্ত তা ছাপা হতো। একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি যাচাই করতেন সেসব লেখা। এখনও কোনও কিছু ছাপার আগে প্রতিটি তথ্য যাচাইয়ের জন্য দায়িত্বশীল লোক আছেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুই যাচাই হয় না, কোনও সম্পাদনা নেই।’

শশী থারুর (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)সবচেয়ে বেশি ফলোয়ার আছে এমন ভারতীয় রাজনীতিবিদদের মধ্যে শশী থারুর অন্যতম। ২০০৯ সালে তিনি যখন নির্বাচনে প্রার্থী হন, তখন ভারতীয় সাংসদদের মধ্যে কেবল তারই ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ছিল। ভারতীয় রাজনীতিবিদ হিসেবে নরেন্দ্র মোদি ২০১৩ সালে টুইটারে সর্বাধিক ফলোয়ার নিয়ে তাকে ছাড়িয়ে যান। এখন মোদির মন্ত্রিপরিষদের প্রত্যেকের টুইটার অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। ব্রিটিশ সরকার তাদের হাইকমিশনার বা রাষ্ট্রদূতের টুইটার অ্যাকাউন্ট রাখা বাধ্যতামূলক করেছে।
এ অঞ্চলের রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক প্রভাবও দেখছেন শশী থারুর। তার কথায়, ‘পৃথিবী বদলে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন এমন একটি জায়গা যেখানে নিজের বক্তব্যকে ঘিরে জনগণের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। কখনও সেটা আপনাকে উদ্বুদ্ধ করে, আবার কখনও নিরাশ করবে। একইসঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু বেঁধে দেওয়ার কাজটাও করে। যেমন– সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি কোনও ইস্যু ট্রেন্ডিং হয়; একজন রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারক হিসেবে তা উপেক্ষা করা যায় না। সুতরাং যেকোনও সময়ের তুলনায় এর প্রভাব এখন অনেক বেশি, এ নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। এখন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এমনকি ২০১৪ সালেও সংখ্যাগরিষ্ঠকে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্দিষ্ট একটি অংশকে প্রভাবিত করতো। কিন্তু এখন নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, ২০২৪ সালের ভারতীয় নির্বাচনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হবে প্রার্থীদের মূল উপকরণ। কারণ, সবাই এতে আছে।’
ভারতের মতো বাংলাদেশেও একইরকম পরিস্থিতি মনে করেন শশী থারুর, ‘এখানে ফোরজি ইন্টারনেট আছে। স্মার্টফোনের ব্যয় কমে যাওয়ায় সুলভে ইন্টারনেট পাচ্ছে যেসব মানুষ, যারা ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারতো। ইন্টারনেট এখন আমাদের হাতের মুঠোয় চলে আসায় সাইবার ক্যাফেতে যেতে হচ্ছে না। এজন্যই বাংলাদেশ ও ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ধরন অনেক বদলে গেছে।’
শশী থারুরের কাছে প্রশ্ন ছিল, বিশ্বজুড়ে রাজনীতিতে শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের দৌরাত্ম্যে তার অবস্থান কী? তিনি বলেন, ‘ভদ্রতার নির্দিষ্ট বাহ্যিক মোড়ক রয়েছে, যা এখন আর দেখা যায় না। মানুষ একে অপরের বিরুদ্ধে খুব ন্যক্কারজনকভাবে উঠেপড়ে লেগেছে। এমন কেন ঘটছে? এক্ষেত্রে আংশিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দোষ দেবো। আমি মনে করি এর কারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় গোপনীয়তার সংস্কৃতি। চাইলে যেকোনও নাম আর যেকোনও ছবি ব্যবহার করে টুইটার অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। কেউ এসব যাচাই করছে না। ফলে অনায়াসে এসব মানুষ ছদ্মবেশে আপত্তিজনক আচরণ করতে পারে। এ কারণে সামগ্রিক মান কমে গেছে। যারা প্রকৃত নাম ব্যবহার করে তারাও সেই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাতে একরকম বাধ্য হয় এবং তারা একইরকম অভদ্রতায় প্ররোচিত হয়ে যায়। এসব কারণে খুব নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়।’
ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক-নেতিবাচক বিষয় খতিয়ে দেখা সংসদীয় কমিটির সভাপতি শশী থারুর। তবে তিনি সেন্সরশিপের বিরোধী। আত্মনিয়ন্ত্রণে বরং তার বিশ্বাস।
ভাষান্তর: জনি হক, ভিডিও ধারণ: নুরুন্নবী চৌধুরী

/জেএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ