দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনামূল্যে কুষ্ঠরোগের ওষুধ সরবরাহের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২:০১, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৩, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
কুষ্ঠরোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সহজ করতে দেশের বিভিন্ন ওষুধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কুষ্ঠরোগীদের জন্য ওষুধ উৎপাদন ও বিনামূল্যে তা সরবরাহ করতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করলে কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা অনেক সহজ হবে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত হবে।

দেশের কুষ্ঠরোগীদের নিয়ে যেসব বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কাজ করছে তাদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী এ কাজে আরও অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত কুষ্ঠবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কুষ্ঠকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুষ্ঠরোগসহ অন্যান্য রোগের হার কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। কুষ্ঠরোগে আক্রান্তদের বিষয়ে রোগী ও স্বজনদের মানসিকতা পরিবর্তনেও কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী কুষ্ঠরোগকে প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করা এবং তাদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতে সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় কুষ্ঠরোগী বেশি, সেসব এলাকায় বিশেষ নজর দিলে ২০৩০ সাল নাগাদ এ রোগ নির্মূল করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, কুষ্ঠ রোগীদের ঘরের বাইরে আসার সুযোগ ও স্বাভাবিক জীবন দিতে আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা ও বাইরের পৃথিবী দেখার সুযোগ করে দিয়েছি। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছি।

স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ বেডের হাসপাতাল গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ও দেশের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের পদক্ষেপ হিসেবে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের গ্রামগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

কুষ্ঠ নির্মূলে গবেষণার প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কুষ্ঠরোগ কোনও অভিশাপ নয়। জীবাণুর সংক্রমণে এ রোগের বিস্তার হয়। এর জন্য দেশি গবেষকদের ‍প্রয়োজনীয় গবেষণায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

সবাই এগিয়ে এলে ২০৩০ সাল নয়, এর আগেই কুষ্ঠরোগকে শূন্যমাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ