অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ রোহিঙ্গাদের আস্থা ফেরাতে সহায়তা করবে: পররাষ্ট্র সচিব

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:১৬, জানুয়ারি ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১৯, জানুয়ারি ২৪, ২০২০

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন

রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত যে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছে তা রোহিঙ্গাদের আস্থা ফেরাতে এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত যেতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। গাম্বিয়া এ মামলাটি দায়ের করে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর পরে রাতে সেন্টার ফর জেনোসাইড আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব এ কথা বলেন।

আদালত ও এর বিচারকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইসিজের আদেশের পূর্ণ বাস্তবায়ন রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে এবং রাখাইনে তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে নিশ্চিত করবে।’

আদেশ বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়ে সচিব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাওয়াকে সম্মান করুন।’

রাখাইনে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ এবং এই আদেশের পরে নিরাপদ অঞ্চল বা অন্য কোনও ভাবে আসিয়ান, চীন ও ভারতসহ অন্য রাষ্ট্র ও জোট রোহিঙ্গাদের মনোবল বাড়ানোর জন্য কাজ করতে পারে।

তিনি মনে করেন, ‘এই আদেশের কারণে নিরাপত্তা পরিষদেও সদস্যদের মন মানসিকতা পরিবর্তন হতে পারে।’ উল্লেখ্য, চীন ও রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারকে সমর্থন করে থাকে।

নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশ তাদের যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে যাতে করে মিয়ানমার আরও চাপ অনুভব করে।’

সাত বছর দায়িত্ব পালনের পরে গত মাসে অবসরে যাওয়া পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেন, ‘এটা একটা ঐতিহাসিক দিন। এই আদেশের ফলে রোহিঙ্গাদের যে পরিচয় দিতে মিয়ানমার অস্বীকার করেছিল সেটি দূর হলো। কারণ, রোহিঙ্গারা একটি পৃথক জাতিগত সত্ত্বা, সেটি এই আদালত ঘোষণা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, তার সময়ে রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং এই আদেশের ফলে অন্য বড় দেশগুলো মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রনীতিকে নতুন করে বিবেচনা করে কিনা সেটি দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বড় দেশ ও তাদের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক একটি বড় প্রশ্ন, কিন্তু আমি মনে করি মিয়ানমারের বিষয়ে একটি আদেশ এসেছে এবং এসব ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলো সাবধানতার সঙ্গে যার বিরুদ্ধে আদেশ এসেছে তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে।’

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব আরও বলেন, ‘ওই সময়ে আমাদের সম্পর্ক তলানিতে ছিল এবং এখনও সেটির উন্নতি হয়নি। তারা সবসময়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে এবং আমরা অনেক পরে তাদের ওই অবস্থানকে ঠেকানোর পদক্ষেপ নিয়েছি।’

আদেশের বিষয়ে তিনি বলেন,‘এখানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে না, এটি মানবতার বিরুদ্ধে মামলা।’

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শক্ত অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ এ তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং এটি সহজ কাজ ছিল না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার মোহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান, জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান, কানাডা দূতাবাসের কর্মকর্তা পেড্রা মুন মরিস বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত রোহিঙ্গা গণহত্যা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলায় চারটি অন্তবর্তীকালীন আদেশ দিয়েছে। আদেশগুলো হচ্ছে গণহত্যা কনভেনশনের ২ ধারা অনুযায়ী মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের হত্যা, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করতে পারবে না এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ সম্প্রদায়ের কোনও ক্ষতি করবেনা; দ্বিতীয় আদেশটি হচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বা অন্য কোনও ধরনের বাহিনী গণহত্যা করবে না, গণহত্যা করার ষড়যন্ত্র করবে না বা গণহত্যাকে উৎসাহিত করে এমন কোনও ঘৃণা বক্তব্য দেবে না; তৃতীয় হচ্ছে গণহত্যা সংক্রান্ত কোনও প্রমাণ নষ্ট বা ধ্বংস করা যাবে না; এবং চতুর্থ হচ্ছে চার মাস পরে মিয়ানমার এগুলো পালনের জন্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে এবং মামলা চলাকালীন সময়ে প্রতি ছয় মাস পরপর প্রতিবেদন দেবে। আদালত আরও  জানিয়েছে, মিয়ানমারের দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর গাম্বিয়া মন্তব্য করতে পারবে।

/এসএসজেড/টিএন/

লাইভ

টপ