মিয়ানমারকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আদালতের রায় মানতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:২৯, জানুয়ারি ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৫, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অবশ্যই মানতে হবে। এই রায় প্রত্যাখ্যান করার কোনও সুযোগ তাদের নেই। এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। সেখানে যতজন বিচারক ছিলেন, তারা সর্বসম্মতভাবে এই রায় দিয়েছেন।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ ও জটিল রোগে আক্রান্তদের অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই রায়ের আগে মিয়ানমার যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত করেছে এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করেছে, তা নিয়ে এতদিন যেসব দেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল, আমি মনে করি, এই রায়ের পর তারা মিয়ানমারকে চাপ দেবে। এতদিন যারা মিয়ানমারকে এই কাজ থেকে নিবৃত্ত করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত চাপ দেয়নি, তারা রোহিঙ্গাদের যাতে পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিয়ে যায় সেজন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে।’
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে, ছোট শিশুদের হত্যা করেছে, সন্তানের সামনে মাকে ধর্ষণ করেছে, সেটা মানবতাবিরোধী অপরাধ। সেই অপরাধের বিরুদ্ধে ওআইসির সব সদস্যরাষ্ট্রের পক্ষে গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেছে। সেই মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক রায় হয়েছে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেই মামলায় আন্তর্জাতিক আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে বলেছেন, মিয়ানমারকে অবিলম্বে মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ করতে হবে। সেখানে যে আরও রোহিঙ্গা রয়েছে, তাদের যাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয় এবং ইতোপূর্বে যে অপরাধ সংগঠিত হয়েছে সেগুলোর তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।’
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য যেসব বাহিনী অপরাধ সংগঠিত করেছে, তারা যাতে আর কোনোভাবেই এ ধরনের কাজে যুক্ত না থাকে তা রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে প্রাথমিকের ১০১ জন শিক্ষার্থীকে ১ হাজার ২০০ টাকা করে, ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৯৪ জন শিক্ষার্থীকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ৯ জন শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার ২০০ টাকা এবং ডিগ্রি ও অনার্স পর্যায়ে ২ জন শিক্ষার্থীকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়।
এছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০০ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ এবং ২টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সামগ্রী এবং ৩০ জনকে বাইসাইকেল দেওয়া হয়। ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস ও জন্মগত হৃদরোগী—এমন ২১ জনকে আর্থিক অনুদানের চেক দেওয়া হয়।
উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ইউএনও মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান চৌধুরী, পৌরসভার মেয়র শাহজাহান সিকদার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার প্রমুখ। বাসস।

/এইচআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ