রফতানিমুখী শিল্পে সরকারের ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:০৪, মার্চ ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০১, মার্চ ২৬, ২০২০

শেখ হাসিনা (ছবি-ফোকাস বাংলা)করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অন্যান্য খাতের মতো পোশাক শিল্প চরম সংকটে পড়েছে। দেশের শিল্প উৎপাদন ও রফতানি বাণিজ্যে আঘাত আসতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার (২৫ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘এ তহবিলের অর্থ দিয়ে কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যবসাবান্ধব বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী জুন মাস পর্যন্ত কোনও গ্রাহককে ঋণখেলাপি না করার ঘোষণা দিয়েছে। রফতানি আয় আদায়ের সময়সীমা দুই মাস থেকে বৃদ্ধি করে ছয় মাস করা হয়েছে। একইভাবে আমদানি ব্যয় মেটানোর সময়সীমা চার মাস থেকে বৃদ্ধি করে ছয় মাস করা হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আর্থিক লেনদেনের সীমা বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল পরিশোধের সময়সীমা সারচার্জ বা জরিমানা ছাড়া জুন মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে নিম্ন-আয়ের মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার আশ্বাস, নিম্ন-আয়ের মানুষদের ‘ঘরে-ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা প্রদান করা হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভাষণে সরকার প্রধান জানিয়েছেন, ভাষাণচরে ১ লাখ মানুষের থাকা ও কর্মসংস্থান উপযোগী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে কেউ যেতে চাইলে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি– বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ ও ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একইভাবে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা ও দেওয়া হচ্ছে। তার কথায়, ‘দুর্যোগের সময়ই মনুষ্যত্বের পরীক্ষা হয়। এখনই সময় পরস্পরকে সহায়তা করার, মানবতা প্রর্দশনের।’

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়গুলো প্রস্তাবিত সুপারিশমালা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করছে। সবাই মিলে একটি যৌথ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এতে বাংলাদেশ ১৫ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে গত ১৫ মার্চ সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোগটির প্রাদুর্ভাব রোধে আঞ্চলিকভাবে সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণের জন্য সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

/এমএইচবি/ইএইচএস/জেএইচ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ