করোনা পরিস্থিতি নিয়ে যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:০০, মার্চ ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৩, মার্চ ৩১, ২০২০

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সকরোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ভালো ব্যবস্থাপনা করতে পেরেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। তারপরও অনেকে নানা রকম কথা বলছেন। এটা নেই, সেটা নেই। কেন কিছুর আওয়াজ নেই? আমাদের কোনও কিছুর কোনও অভাব নেই। সব ব্যবস্থা কিন্তু নেওয়া হয়েছে। যারা এসব কথা বলেন তারা নিজেরা কিছু জানেন না। তাদের গলার স্বর অনেক পরে দেখেছি। আমরা তার অনেক আগেই ব্যবস্থা নিয়েছি। না হলে এই পর্যন্ত আমরা... অনেক ‍উন্নত দেশ যা করতে পারেনি, আল্লাহর রহমতে আমরা কিন্তু তা করতে পেরেছি। আমরা এটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। এটা হয়তো আরও কিছুদিন আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।’

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।

দেশের জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ এলে তা সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। সেজন্য সবাইকে সেইভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।  এতে ভীত হওয়ার কিছু নেই।  মনের জোর থাকতে হবে।  অনেক দুর্যোগ আমরা মোকাবিলা করেছি।  ইনশাল্লাহ এই দুর্যোগ মোকাবিলা করে যাচ্ছি এবং করে যাবো। আমরা বিজয়ী জাতি। মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। এখানেও আমরা বিজয় অর্জন করবো ইনশাল্লাহ।

করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অনেক উন্নত দেশে দেখছি অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। রোগ সংক্রমিত হচ্ছে। সব মেরুকরণ ভেঙে যাচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে  ভূখণ্ডের দিক থেকে আমরা ছোট। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশাল। এ অবস্থার মধ্যে থেকেও আমরা যথেষ্ট সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। এজন্য যারা কাজ করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। সবাই নিজেদের জায়গায় থেকে যার যার দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই এটা আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

ক্রান্তিকালে এই ভিডিও কনফারেন্স করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ যে পরিস্থিতিটা সৃষ্টি হয়েছে সেটা কেবল বাংলাদেশে নয়, সমগ্র পৃথিবী জুড়ে এই সমস্যাটা হয়েছে। এখানে ধনী-দরিদ্র, দুর্বল-শক্তিশালী, উন্নত-অনুন্নত কেউই বাদ যায়নি। সবাই এই পরিস্থিতির শিকার। কেউই বাদ যায়নি। এরকম পরিস্থিতি বোধহয় আমরা জাতীয় জীবনে আর কখনও দেখিনি। অতীতের ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে শত বছরে একবার করে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এরকম একটা ধাক্কা আসে।’

জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জীবন পড়ে থাকবে না, চলবে। সেদিকে লক্ষ রেখে আমাদের কাজ করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। তবে, এই সুরক্ষায় রাখতে গিয়ে মানুষকে কষ্ট দেওয়াটা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। করোনা থেকে জনগণকে সুরক্ষার জন্য জনকল্যাণে নির্দেশনা পালন করতে হবে। সবাইকে যার যার জায়গায় থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ছুটির কারণে দিনমজুর, দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমিক শ্রেণি, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবিকার পথটা বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। খাদ্যদ্রব্য পাঠিয়েছি। ১০ টাকা কেজি চাল, ভিজিডি, ভিজিএফ চালু আছে। যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের বলবো এই চলমান নিরাপত্তা প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি দরিদ্র শ্রেণি, দিনমজুর যারা এখন বেকার তাদের কাছে সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে। যেন পরিবার নিয়ে তারা অভুক্ত না থাকে। এদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সাহায্য করতে গিয়ে কোনও লোকসমাগম করা যাবে না। এক্ষেত্রে ওয়ার্ড পর্যায় গিয়ে জনগণকে সচেতন করে দরকার হলে বাড়ির কাছে পাড়া মহল্লায় গিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা দিতে হবে। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনও জায়গায় বেশি লোকসমাগম করা যাবে না।

শেখ হাসিনা বলেন,  ‘এ বছর জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর বছর। জন্মশতবার্ষিকী পালনে আমরা সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপও নেই। কিন্তু  চীনে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর আমরা জনগণের নিরাপত্তা দেওয়াকে বড় কর্তব্য বলে মনে করেছি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের সম্পৃক্ত করে যে স্বাধীনতা জাতির পিতা এনে দিয়ে গেছেন, সেই জনগণের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে আমাদের বহু কাঙ্ক্ষিত মুজিববর্ষের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এর পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন দিবসের কর্মসূচি বাতিল করেছি। মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি লক্ষ রেখেই আমরা এটা করেছি।’

করোনা মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যখন চীনে করোনাভাইরাস দেখা দেয় তখনই সেখান থেকে আমাদের কিছু ছাত্রকে ফিরিয়ে আনি। তাদের মাধ্যমে আমাদের দেশে যাতে কারো সংক্রমিত না হতে পারে, সেজন্য কোয়ারেন্টিনে রাখা হলো। সেইসঙ্গে আমরা ভিসা শিডিউল বন্ধ করে দেই যাতে কোনও বিদেশি না আসতে পারে। এর মধ্যে কিছু কিছু চলেও এসেছিল। যাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের সন্দেহভাজন ছিল তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, নার্স, চিকিৎসক নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। আমরা এক চোটে কিছু করিনি। পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’

২০ জন আক্রান্ত ও ৫ জন নিহতের পর সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করলাম। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের যাতে কষ্ট না হয় তার জন্য নিত্যপণ্য, পণ্য পরিবহন, ওষুধসহ জরুরি বিষয়গুলো চালু রাখার ব্যবস্থা নিলাম। আমরা সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সবকিছু সীমিত আকারে চালু রাখার ব্যবস্থা করেছি। যেসব নির্দেশনা দিয়েছি, সবাইকে সেগুলো পালন করতে হবে। যাতে করে করোনা সংক্রমিত না হয়।’

নিজের সুরক্ষা নিজেকে নিতে হবে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের সুরক্ষা নিজেকে নিতে হবে। কেউ এটা দিয়ে যাবে না। নিজের ভালোটা নিজেকেই বুঝতে হবে। এটা কেউ না বুঝলে তার নিজেরই ক্ষতি হবে। পরিবারের ক্ষতি হবে, প্রতিবেশীর ক্ষতি হবে।’

সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় সব থেকে বেশি প্রয়োজন ছিল সচেতনতা সৃষ্টি করা। সেটা আমরা করতে পেরেছি বলেই তিন মাসের কাছাকাছি হয়ে গেলো আমরা পরিস্থিতি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে করোনা সুরক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিমান, স্থল ও নৌবন্দরে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করেছি। এসব বন্দরে স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। কারও রোগ আছে কিনা তা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেছি।’

চিকিৎসায় সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,  ‘চিকিৎসা ও পরীক্ষার ব্যবস্থা এখন ঢাকা শহরের মধ্যে নয়,  বিভাগীয় শহরেও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাজেই কেউ সংক্রমিত হলে যেন সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। এখানে কোনও লুকোচুরির ব্যাপার নয়।  লুকোচুরি করতে গেলে নিজেই নিজের ক্ষতি করবেন।’

প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীসহ সবাই যার যার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। প্রশাসনের সবাইকে বলবো একসঙ্গে কাজ করতে। প্রত্যেক এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের একটা প্রভাব থাকে। তাদের সঙ্গে নিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে।’

আইনশৃঙ্খলার বিষয় সচেতন থাকতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেজন্য সাধারণ কার্যক্রম আমাদের অব্যাহত থাকবে। কেউ যেন সুযোগ নিতে না পারে, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। পাশাপাশি করোনা বিষয়ক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে সবাইকে নজর দিতে হবে।

দুর্নীতি হলে ছাড় নয়

ধনী শ্রেণিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে অনেকে এগিয়ে এসেছেন। অনেকে নিজেরা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তবে এটাও দেখতে হবে একজনই যেন বারবার না পায়। কেউ যেন বাদ না পড়ে। এজন্য যথাযথ তালিকা হওয়া উচিত। ওয়ার্ড পর্যন্ত তালিকা করে সেই অনুযায়ী যেন সহযোগিতা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। আর এই দায়িত্ব সবাইকে পালন করতে হবে। বিত্তশালীদেরও এই বিষয়টি দেখতে হবে। প্রশাসন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কর্তব্য হিসেবে এটা নিতে হবে। আর এই জায়গাতে যেন কোনও রকম দুর্নীতি-অনিয়ম না হয়। কোনও রকম দুর্নীতি বা অনিয়ম হলে এক চুলও ছাড় দেওয়া যাবে না। কারণ মানুষের দুঃসময়ের সুযোগ নিয়ে কেউ অর্থশালী-সম্পদশালী হয়ে যাবে সেটা কিন্তু কখনও বরদাশত করবো না। আমি সর্তক করে দিতে চাই, এ ধরনের কোনও অনিয়ম বা অভিযোগ যদি পাই, সে যেই হোক না কেন আমি কিন্তু তাকে ছাড়বো না।’

তিনি বলেন, ‘যারা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তার সহযোগিতা পাচ্ছেন সেটা অব্যাহত থাকবো। তাদের বাইরে যেটা হচ্ছে তাদের তালিকাটাও আমাদের করা দরকার। দরকার হলে মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছে দেবো। খাদ্য পৌঁছে দেবো। আমাদের কিন্তু অভাব নেই। যথেষ্ট খাদ্য মজুত আছে। আমরা চাই না দেশের মানুষ কষ্ট পাক।’

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থবির না হয়

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থবির না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। একটা বিষয় কিন্তু দেখতে হবে, সারা বিশ্ব কিন্তু অর্থনৈতিক কারণে স্থবির হয়ে গেছে। সামনে বিরাট একটা অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। মন্দা মোকাবিলার চিন্তাভাবনা এখনই আমাদের করতে হবে। পরিকল্পনা নিতে হবে। এখানে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাদ্য নিরাপত্তা। এক্ষেত্রে একটা সুবিধা হলো আমাদের দেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। আমাদের মানুষ আছে। এখানে কৃষিমন্ত্রী (ড. রাজ্জাক) আছেন, তার দিকে দৃষ্টি দেবো খাদ্য উৎপাদন যেন অব্যাহত থাকে। সবাইকে নজর রাখতে হবে। কারও এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে। কোনও জলাশয় যেন পড়ে না থাকে। এটা পারলে আমরা দেশের চাহিদা তো মেটাতে পারবোই, পাশাপাশি অন্য দেশেও সাহায্য করতে পারবো। আমরা এই সক্ষমতা অর্জন করতে পারি, সেই যোগ্যতা আমাদের আছে। এজন্য এখন থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। তরিতরকারি, ফলমূল, মাছের চাষ থেকে যে যা পারেন সেটা করতে হবে। কৃষিমন্ত্রীকে বলবো এজন্য উপকরণ দিয়ে সহায়তা করতে। এই উদ্যোগ নিয়ে আমরা বিশ্ব মন্দা কাটিয়ে উঠতে পারবো। মন্দা আমাদের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।’

তিনি বলেন,  দ্রব্যমূল্য যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে। সাধারণ মানুষের আওতায় থাকে সেই ব্যবস্থাটাও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে অযথা দাম বাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টি অমানবিক। ব্যবসায়ীদের বলবো এটা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন।

গুজবে কান নয়

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এখানে আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে নানা ধরনের গুজব রটে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি ঠিকই। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি বলেই আজকে এভাবে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। কিন্তু এই সুযোগ নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়ে থাকে। নানা ধরনের কথা অনেকে বলে থাকেন। দেশের বাইরে থেকেও কেউ কেউ বলে থাকেন। যারা এ ধরনের গুজব রটায় মিথ্যা প্রচারণা চালায়, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। গুজবে কেউ কান দেবেন না। গুজব রটানো থেকে সবাই বিরত থাকেন। গুজব নিয়ে কেউ বিচলিত হবেন না। এটা সবার প্রতি আমার অনুরোধ। আমরা ডিজিটালের সুবিধাগুলো নেবো, অসুবিধাগুলো পরিহার করবো।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের সুরক্ষার জন্য প্রথম দিক থেকেই কাজ করছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে নির্দেশনা পাওয়ার আগে থেকেই আমরা কাজ করছি। মানুষকে সুরক্ষিত রাখার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি বলেই আমাদের এখানে ব্যাপক প্রাদুর্ভাব হয়নি। ভবিষ্যতে যাতে না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের আরও কিছু দিন কষ্ট করতে হবে। যাতে করে এই রোগে আমাদের দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, মারা না যায়। সবার ভালোর দিকে তাকিয়েই আমরা এই ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি সবকিছু আমরা সীমিত আকারে চালু করে দেবো। কোনটা কী করা যায় তা আমরা চিন্তাভাবনা করে দেখবো। মানুষের আয়ের পথটি যেন খোলা থাকে, সেই ব্যবস্থাটাও আমরা নেবো।’

নববর্ষের অনুষ্ঠান ডিজিটালভাবে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে আমাদের বাংলা নববর্ষ। এই নববর্ষ আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করে থাকি। লোকসমাগম যাতে না হয়, সেজন্য আমরা সব অনুষ্ঠানই বাদ দিয়েছি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সবাই উৎসব করতে পারেন। বিশাল জনসমাগম করে এই অনুষ্ঠান সারা বাংলাদেশে যেন না হয়, তা মনে রাখতে হবে। এটাও ঠিক, কষ্ট আমার নিজেরও লাগছে। নববর্ষের অনুষ্ঠান অনেক মজার। এটাও আমাকে বন্ধ রাখতে হচ্ছে মানুষের কল্যাণের দিকে তাকিয়ে। এটা আমার অনুরোধ এবার নববর্ষের অনুষ্ঠান করবেন না।’

আরও পড়ুন:

ডিজিটালি নববর্ষ উদযাপনের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর 

বাড়বে সাধারণ ছুটি 

‘দুঃসময়ে কেউ সুযোগ নিলে আমি কিন্তু তাকে ছাড়বো না’

এরকম পরিস্থিতি আমরা জাতীয় জীবনে আর দেখিনি: প্রধানমন্ত্রী

/ইএইচএস/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ