মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:১৫, এপ্রিল ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৫, এপ্রিল ০৬, ২০২০

বায়তুল মোকাররম মসজিদ (ছবি: ফোকাস বাংলা)

মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা জরুরি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একইসঙ্গে সব মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাধারণের প্রার্থনা না করার নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সব ধর্মের মূলনীতির আলোকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হলো এবং এ নির্দেশনা অমান্য করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ভয়ানক করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা ছাড়া অন্য সব মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ সর্বোচ্চ পাঁচ জন এবং জুমার জামাতে সর্বোচ্চ ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের কোনও মুসল্লি মসজিদে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।



ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি

উল্লেখ্য, জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হিসাবে, সব মিলিয়ে দেশে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩ জন। এর মধ্যে ঢাকা জেলায় ৬৪ জন। সরকারের হিসাবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১২ জন।

জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ে সারা দেশে কোথাও ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলিগের তালিম, মিলাদ আয়োজন করা যাবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও বিপদমুক্তির প্রার্থনা করবেন।

সব ধর্মের মূলনীতির আলোকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হলো। নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ জানানো হলো। কোনও প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশ লঙ্ঘিত হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে । 

জানা গেছে, ২৪ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের খ্যাতনামা আলেমদের  সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিরাজমান পরিস্থিতিতে জনগণের সুরক্ষা বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে আলেমরা মসজিদগুলোয় জুমা ও জামাতে মুসল্লিদের সীমিত রাখার পরামর্শ দেন। সে পরামর্শের কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি দেশের মসজিদগুলোতে। এরপর ২৯ মার্চ আলেমদের নিয়ে ফের বৈঠক করে ইফা।ইফা জানায়, মসজিদে নিয়মিত আজান, ইকামত, জামাত ও জুমার নামাজ অব্যাহত থাকবে। যারা জুমা ও জামাতে যাবেন তারা সবাই যাবতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অবলম্বন করবেন। অজু করে নিজ নিজ ঘরে সুন্নত ও নফল আদায় করবেন। শুধু জামাতের সময় মসজিদে যাবেন এবং ফরজ নামাজ শেষে দ্রুত ঘরে চলে আসবেন। তবে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় নতুন করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

করোনাভাইরাস মানুষের হাঁচি, কাশি ও সংস্পর্শের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে সংক্রমিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির দেহে রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই তার মাধ্যমে অন্যদের সংক্রমণ ঘটতে পারে। অনেকের মধ্যে ভাইরাসটি সুপ্ত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে, যার লক্ষণ দৃশ্যমান হয় না। পূর্ব থেকে সতর্কতা অবলম্বন না করলে এর বিস্তার রোধ অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জসসমাগমের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার ঘটেছে।পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এ ধরনের বিস্তার ও প্রাণহানির ঘটনার উদাহরণ বিদ্যমান। ইতোমধ্যে মুসলিম স্কলারদের অভিমতের ভিত্তিতে মক্কা, মদিনাসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের মসজিদে মুসল্লিদের আগমন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ ধর্মীয়  প্রতিষ্ঠানে সর্বসাধারণের আগমন বন্ধ রাখার জোর পরামর্শ দিয়েছেন।

/সিএ/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ