মাছে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করলে ৭ বছরের কারাদণ্ড

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫১, এপ্রিল ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৩, এপ্রিল ০৬, ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভা বৈঠক।

 

চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছের ভেতর জেলিসহ রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করলে মাছ ব্যবসায়ী বা রফতানিকারকদের এখন আগের তুলনায় বহুগুণ কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। দেশের বাজার ও রফতানি উভয় ক্ষেত্রেই এ শাস্তি প্রযোজ্য হবে। আগে এক্ষেত্রে শাস্তি ছিল ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। তা বাড়িয়ে করা হয়েছে সর্বোচ্চ সাত বছরের ( পাঁচ বছরের কম নয়) কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকার স্থলে পাঁচ লাখ টাকা। এর যে কোনোটি বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রেখে ‘মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (৬ এপ্রিল) গণভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুমোদিত আইনের খসড়া অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি রফতানি বা অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে মৎস্য বা মৎস্যপণ্য বাজারজাত করলে শাস্তি অনধিক সাত বছর কারাদণ্ড ( তবে পাঁচ বছরের নিচে নয়) বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের রফতানি বাজার ধরে রাখা এবং নতুন বাজারে অনুপ্রবেশ, মানসস্পন্ন মৎস্য ও মৎস্যপণ্য আমদানি-রফতানি ও অভ্যন্তরীণ বাজারে বাজারজাতকরণের জন্য এ সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশটিকে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও রহিতক্রমে বাংলা ভাষায় আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ মার্চ ‘মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৯ এর খাসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা কমিটি।

আইনটি ৯টি অধ্যায়ে মোট ৫০টি ধারা আছে। সরকার মাছের মান পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনে পরীক্ষাগার স্থাপন করতে পারবে। লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া কোনও ব্যক্তি মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রফতানি, কারখানা বা স্থাপনা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করতে পারবে না। লাইসেন্সে উল্লিখিত শর্ত ভঙ্গসহ অসত্য তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন, একাধারে তিন বছর লাইসেন্স নবায়নে ব্যর্থতা, লাইসেন্স হস্তান্তর বা বিক্রয় ইত্যাদি কারণে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। কারখানা বা স্থাপনার স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় না রাখা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে মানের ব্যত্যয় হলে অপরাধীর বিরদ্ধে অনধিক পাঁচ লাখ টাকা প্রশাসনিক জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া কারখানা বা স্থাপনার মালিক নির্ধারিত পদ্ধতিতে কারখানা বা স্থাপনার স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্যানিটারি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবেন মর্মে বিধানাবলী বর্ণিত আছে। মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রফতানির ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাভ থেকে অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে হবে।

 

/এসআই/টিএন/

লাইভ

টপ