নতুন ছয় জন ভিয়েতনাম দূতাবাসে হাজির

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ০৩:০০, জুলাই ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৬, জুলাই ১৪, ২০২০

দূতাবাসে আসা অবৈধ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজগত সপ্তাহে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে আটক ২৭ বাংলাদেশিকে ডিটেনশনে সেন্টারে নিতে চাচ্ছে দেশটি। কারণ ওই বাংলাদেশিরা টুরিস্ট ভিসায় ভ্রমণে গিয়ে গোপনে কাজ করছিল এবং স্থানীয় অভিবাসন আইন ভঙ্গ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় ভিয়েতনাম সরকার তাদেরকে দুটি গেস্ট হাউজে রেখেছে। এদিকে রবিবার (১২ জুলাই) আরও ছয় বাংলাদেশি দূতাবাসে হাজির হলে তাদেরকেও ভিয়েতনাম সরকার একটি গেস্ট হাউজে রাখে। এছাড়া আরও ১৩ ও ১৪ জনের দুটি দল বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চেয়েছে।

সোমবার (১‌৩ জুলাই) এই বিষয়ে জানতে চাইলে ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ বলেন, ’এর আগে ৪১ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছি কোনও হৈচৈ ছাড়াই এবং এবারেও আমরা আটককৃতদের দেশে পাঠানোর চেষ্টা করছি। যারা এখানে অবস্থান করছে বা অন্য কোনও সংস্থা অনেক কথাই বলতে পারে তবে স্থানীয় আইন, সরকারের নিয়ম ও বাস্তবতা মেনে আমাদের কাজ করতে হবে।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ’আমরা ইতোমধ্যে ভিয়েতনাম সরকারকে জানিয়েছি ওই বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট উদ্ধার করার জন্য। স্থানীয় দালাল চক্রকে গ্রেফতার, অন্যকোনও বাংলাদেশি অসহায় অবস্থায় থাকলে তাদের উদ্ধার করা এবং এদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করার জন্য বলেছি। এছাড়া বাংলাদেশে যে দালালচক্র আছে তাদের বিষয়েও আমরা ঢাকায় জানিয়েছি।’

তিনি জানান, ঢাকা ও হ্যানয়ে দুটি দালাল চক্র কাজ করে। যারা এখান থেকে বাংলাদেশিদের প্রলোভন দেখিয়ে ভিয়েতনামে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে, পাসপোর্ট কেড়ে নেয় এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে টাকাও কেড়ে নেয়। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে ঢাকায় সোহাগ নামের একজন দালাল কাজ করে যার অফিস পুরানা পল্টনে। ওই সোহাগ ম্যাশ ক্যারিয়ার সার্ভিসে (প্যারামাউন্ট কমপিউটার সিটি বিল্ডিয়ে অফিস) কাজ করে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

এই বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ’ঢাকা-হ্যানয় দুই জায়গাতেই বাংলাদেশি দালাল চক্র কাজ করছে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আমরা একই ধরনের তথ্য পেয়েছি। ভিয়েতনামে মোস্তফা ও আব্দুল জব্বার নামে দুই জন বাংলাদেশি কাজ করে। এরমধ্যে জব্বারের ভিয়েতনামে সাময়িক রেসিডেন্ট কার্ড আছে এবং দুই জনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে ভিয়েতনামে মানবপাচারের মামলা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। ওই দালালরা ভিয়েতনামের পমেই ও ভিন কং থিন কন্সট্রাকশন কোম্পানিতে কাজ করছে।’

বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ’বর্তমান কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে বিষয়টি কিছুটা জটিল কারণ এখন নিয়মিত ফ্লাইট নেই। আমরা ভিন্ন ব্যবস্থায় তাদের পাঠানোর বিষয়টি দেখছি।’

আরও পড়ুন-

‘নুরের উসকানিতে ভিয়েতনামে বাংলাদেশ মিশন দখলের চেষ্টা ২৭ বাংলাদেশির’  
‘মিশন দখল করতে চাওয়া’ ২৭ বাংলাদেশির থাকা-খাওয়া দেখছে ভিয়েতনাম

 

/এসএসজেড/এনএস/

লাইভ

টপ