মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম তাদের শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে মন্তব্য করে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। যদিও শপথ ভঙ্গ হয়েছে বলে মনে না বেঞ্চের অন্য তিন বিচারপতি।
শপথ ভঙ্গের হয়েছে বলে যারা মনে করেন, তারা হলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি হলেন, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। রায়ের এ অংশটি লিখেছেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী।
দুই মন্ত্রীর শাস্তির বিষয়ে একমত হলেও তারা শপথ ভঙ্গ করেননি বলে মনে করেন তিন বিচারপতি। তারা হলেন, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি নিজামুল হক। এ অংশের রায় লিখেছেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। রায়ে বলা হয়েছে, ‘আদালত অবমাননা এবং তার জন্য ধার্যকৃত জরিমানা বিষয়ে তারা একমত হলেও তারা মনে করেন না সংবিধান রক্ষায় দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন।’
এর আগে আদালত সংক্ষিপ্ত রায়ে বলেছিলেন, ‘বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত অবমাননা করেছেন দুই মন্ত্রী। আর পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে শপথভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচ বিচারপতি।’ তারা বলেন, দুই মন্ত্রী আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং সংবিধান রক্ষা ও সংরক্ষণে তাদের শপথ ভঙ্গ করেছেন।’
গত ২৭ মার্চ আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত করে দুই মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। মানবতারোধী অপরাধী মীর কাসেম আলীর চূড়ান্ত রায়ের আগে সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য দুই মন্ত্রীর নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আট সদস্যের আপিল বিভাগ ওই রায় দিয়েছেন।
গত ৫ মার্চ ঢাকায় ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় মীর কাসেমের রায় নিয়ে কামরুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সমালোচনা করেছিলেন। এরপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তাদের প্রতি আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। রুলের শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে দুই মন্ত্রীর পক্ষে গত ১৪ মার্চ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে নোটিশের জবাব দাখিল করা হয়। আদালতের তলবে ১৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক হাজিরা দেন। তবে, বিদেশে থাকায় সেদিন হাজির হতে পারেননি খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ২০ মার্চ ফের দুই মন্ত্রীকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০ মার্চ দুই মন্ত্রী আপিল বিভাগে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। ২৭ মার্চ দুই মন্ত্রীকে ফের হাজিরের নির্দেশ দেন। পরে উভয়েরই আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত বলেন, মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত অবমাননা করেছেন তারা। তাদের সাতদিনের মধ্যে জরিমানার টাকা ইসলামীয়া চক্ষু হাসপাতাল ও কিডনি ফাউন্ডেশনকে দিতে বলা হয়। পরে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন তারা।
আরও পড়ুন: দুই মন্ত্রীর অর্থদণ্ড নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
/ইউআই/এমএনএইচ/








