পুরনো জেএমবির সদস্য রাশেদুর রহমান সুমন গ্রেফতারের পরই তার স্ত্রী শাকিরা নব্য জেএমবির আশ্রয়ে আসে। গ্রেফতারের আগে সুমনের নব্য জেএমবিতে যোগদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন ছিল। তবে নিজে যোগদান করতে না পারলেও তার স্ত্রী পরবর্তীতে নব্য জেএমবিতে যোগ দেয় বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম।
বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে পাঁচ জেএমবি সদস্য গ্রেফতারের বিষয়ে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে এই গ্রুপের যাদের গ্রেফতার করেছিলাম। তাদের মধ্যে একজন ছিল রাশেদুর রহমান সুমন। তার স্ত্রী আশকোনায় আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে নিহত হয়। রাশেদুর পুরনো জেএমবির দল পরিত্যাগ করে নব্য জেএমবিতে যোগদানের প্রক্রিয়ায় ছিল। সে গ্রেফতার হওয়ার পর তার স্ত্রী পুরোপুরি নব্য জেএমবির আশ্রয়ে চলে যায়। সেই আশকোনায় বাচ্চাসহ আত্মঘাতী হামলা চালায়। সে নিহত হলেও বাচ্চাটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাচ্চাটির অবস্থা উন্নতি হচ্ছে। সে এখন কম হলেও কথা বলছে।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দারুসসালাম এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি)সদস্যকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. রিয়াজ ওরফে ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রাকিব, মো. আবু বিন সাঈম ওরফে বাপ্পী ওরফে অপু, কাজী আব্দুল্লাহ আল ওসমান ওরফে আহসান, মো. সোহাগ ওরফে চেয়ারম্যান এবং মো. মামুন ওরফে হিমেল।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান সিটিটিসি প্রধান। তিনি বলেন, ‘পুরনো জেএমবি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। আপনাদের মনে আছে কিছুদিন আগে ডাকাতি করা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ এদের একটি গ্রুপকে গ্রেফতার করেছিলাম। তাদের সূত্র ধরেই এই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগের গ্রুপের কাছেও কিছু বিস্ফোরক পাওয়া গিয়েছিল। এদের কাছেও প্রায় ৩০ কেজি তরল ও পাউডার জাতীয় বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। ওরা ঢাকায় এসেছিল ডাকাতি বা ছিনতাই করতে। কোনও এক স্থানে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল তাদের। এই ডাকাতি ও ছিনতাই করে তারা সংগঠন ও নিজেদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে। এরা মূলত ফুলটাইমার। ফলে তারা অন্য কোনও কাজ করে না। ডাকাতি ও ছিনতাই করা টাকা দিয়েই তাদের সংসার চালায়।’
উল্লেখ্য, এ বছরের ১৭ অক্টোবর রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে জেএমবির সাত সদস্য গ্রেফতার করে সিটিটিসি। এদের মধ্যে রাশেদুর রহমান সুমন গ্রেফতার হন। সুমন গ্রেফতারের পরই তার স্ত্রী, মেয়েসহ নব্য জেএমবির আশ্রয়ে আসে।
এরপর ২৩ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন পূর্ব আশকোনার ৫০ নম্বর বাসার নিচতলায় অভিযান চালায় সিটিটিসি। রাতভর বাড়িটিকে ঘেরাও করে রাখা হয়। ভোরে ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানানো হয়। এ নিয়ে জঙ্গিদের সঙ্গে কয়েকঘণ্টা দেনদরবারও চলে। এরপর ২৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে তৃষামনিসহ দুই নারী জঙ্গি তাদের সন্তান নিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে গ্রেফতার জঙ্গি সুমনে স্ত্রী শাকিরা মেয়ে সাবিনাকে নিয়ে সুইসাইডাল ভেস্টের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটায়। শাকিরা নিহত হলেও গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেয়ে সাবিনাকে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ সময় অপারেশনের পর সাবিনা সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম।
/আরজে/এসএনএইচ/








