তাজরীন ফ্যাশনসে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার এ মামলায় ৬ষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন সাবেক কোয়ালিটি সুপারভাইজার মো. রাকিব হোসেন। তিনি জবানবন্দিতে অভিযোগ করেন, সিকিউরিটি অ্যালার্ম বেজে ওঠায় সবাই বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বের হতে বাধা দিয়ে বলা হয় ‘কিছু হয় নাই, তোরা কাজ কর’।
ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম সাইফুল ইসলামের আদালতে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেলোয়ার হোসেনসহ ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মো. রাকিব হোসেন তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘ঘটনার সময় ডিউটিতে ছিলাম, সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে হঠাৎ অ্যালার্ম বাজে। তখন কর্মরত সবাই ভবন থেকে বাইরে বের হতে যায়। তখন ফ্যাক্টরির ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক, কোয়ালিটি ম্যানেজার শহিদুজ্জামান দুলাল, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল-আমিনসহ অন্যারা বলে যে, ‘কিছু হয় নাই, তোরা কাজ কর’।
তিনি বলেন, ‘তারপর আমরা কাজে যাই, এর কিছুক্ষণ পর বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনতে পাই। তখন আমরা বের হতে গিয়ে দেখি গেইট লক, গেইটের সামনে ধোঁয়া দেখতে পাই। তখন সবার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।’
মো, রাকিব হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা ২০/২৫ জন মিলে স্যাম্পল রুমের জানালা ধাক্কাধাক্কি করে একটা ইট সরিয়ে গ্রিল বাঁকা করে বের হয়ে বাঁশ দিয়ে পাশের ভবনের ছাদে যাই এবং সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাই। যারা আমাদেরকে ঘটনার দিন বের হতে বাধা দেন তারা আজকে আসামির কাঠগড়ায় উপস্থিত আছেন।’
সাক্ষীর জনানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট টি এম আকবর ও ফারুক আহমেদ। বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রেখেছেন। এ পর্যন্ত চার্জশিটের ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
মামলার ১৩ আসামির মধ্যে দুলাল উদ্দিনসহ দুইজন পলাতক রয়েছেন। মামলার বাকি আসামিরা হলেন, তাজরীন ফ্যাশনসের চেয়ারম্যান মাহমুদা আকতার, কোয়ালিটি ম্যানেজার শহিদুজ্জামান দুলাল, অ্যাডমিন অফিসার দুলাল উদ্দিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনারুল, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল-আমিন, স্টোর ইনচার্জ আল-আমিন, লোডার শামীম মিয়া প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক ও প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জু।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন নিহত হন। আহত ও দগ্ধ হন আরও দুই শতাধিক শ্রমিক। পরের দিন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক এ কে এম মহসিনুজ্জামান খান ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তাজরীন ফ্যাশনের এমডি দেলোয়ারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এসএম কুদ্দুস জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
/এসআইটি/টিএন/








