কূটনৈতিক সুবিধার অপব্যবহার করায় রাজধানীর পিংকসিটির একটি বাড়ি থেকে একটি জাগুয়ার গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কূটনৈতিক সুবিধায় গাড়িটি আমদানি করে পরবর্তীতে তা অবৈধভাবে হস্তান্তর করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর পিংকসিটির জেনো ভ্যালির গ্যারেজ থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্টো ভ ১১-১৬২। তদন্তের স্বার্থে ঐ বাড়ির বাসিন্দা বর্তমান ব্যবহারকারী তানিয়া রহমানের নিকট হতে গাড়িটি সাময়িক আটক করে শুল্ক গোয়েন্দার সদর দফতরে নিয়ে আসে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শুল্ক গোয়েন্দা আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়িটি জব্দ করলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আটক করা গাড়িটির মডেল: Car (Saloon) JAGUAR 2002, চেসিস নং: SAJACO1171FM2285, ইঞ্জিন নং: MIZ-138922363 ও রেজি নং: ঢাকা মেট্রো ভ-১১-১৬২৫, তৈরির সন: ২০০২। গাড়িটির শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৫ কোটি ৮৫ হাজার ৪২১ টাকা এবং শুল্ককরাদির পরিমাণ ২৩ কোটি ৮২ লাখ ৮৮৮ টাকা।
প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা অনুযায়ী, আমদানির সময় দাখিল করে বিল অব এন্ট্রি (বি/ই) অনুযায়ী গাড়িটির কান্ট্রি অব অরিজিন দেখানো হয়েছে জার্মানি। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট অনুযায়ী কান্ট্রি অব অরিজিন চায়না হলেও তা মূলত যুক্তরাজ্যের।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এলসি ও এলসিএ ওপেনিং ব্যাংকের তথ্যাদিতেও ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে। মূলত গাড়িটির অস্পষ্ট ও মিথ্যা দলিলাদি উপস্থাপন করে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে গাড়িটির প্রকৃত মালিক তানিয়া রহমানের স্বামী মৃত মাহবুবুর রহমান বংলাদেশস্থ চেক রিপাবলিকের কনস্যুলার অফিসে কর্মরত ছিলেন। গাড়িটি কূটনৈতিক সুবিধায় আনা হয়েছিল এবং তা অবৈধভাবে হস্তান্তর করা হয়।
শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক ড. মঈনুল ইসলাম খান বলেন, ‘এখন শুল্ক আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
/জেইউ/এসএনএইচ/








