গাজীপুরে টঙ্গী কলেজ গেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানকে বহনকারী পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যান লক্ষ্য করে ককটেল হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে ট্রাফিক পুলিশ। তাকে টঙ্গী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। সোমবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। খবরটি নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ তালুকদার।
টঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল খায়ের বাংলা ট্রিবিউনকে খবরটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সন্ধ্যায় কলেজ গেট দিয়ে একটি প্রিজন ভ্যান যাচ্ছিল। তখন এক যুবক প্রিজন ভ্যানটিতে ককটেল নিক্ষেপ করে। এরপর সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ তাকে আটক করে। প্রাথমিকভাবে নিজের নাম মোস্তফা বলে পুলিশকে সে জানিয়েছে। তার কাছ থেকে ব্যাগভর্তি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে টঙ্গী থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার পাগলী গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে।’
জানা গেছে, মুফতি হান্নানসহ ১৯ আসামিকে জজকোর্টে হাজিরা শেষে প্রিজন ভ্যানে কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রিজন ভ্যানের পাহারায় পেছনে একটি পিকআপ ছিল। সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রিজন ভ্যানটি টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় পৌঁছালে ওই যুবক দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে। লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সেগুলো রাস্তায় পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় টঙ্গী ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ সদস্যরা মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই যুবককে ব্যাগভর্তি ককটেল এবং নগদ সাড়ে সাত হাজার টাকাসহ আটক করেন তারা। এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের কারণে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে টঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলটি ঘিরে রাখে।
ট্রাফিক পুলিশের কর্তব্যরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মজনু দুপুর থেকে টঙ্গীর কলেজ গেটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে একজনকে ধরেছি আমি। দুর্বৃত্তদের আরও তিনজন পালিয়েছে। সাধারণ মানুষ আহত হবে ভেবে পুলিশ তখন গুলি করেনি। পরে শুনেছি, ওই প্রিজন ভ্যানে মুফতি হান্নান ও বেশ কয়েকজন আসামি ছিল।’
ঘটনার পর ট্রাফিক পুলিশ সহকারী উপ-পরিদর্শকের মনে হয়েছে, হামলার জন্য চক্রটি আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারা সড়কে বাঁশ ফেলে রাস্তা পারাপারের চেষ্টা করেছিল, তবে আমি রাস্তায় বাঁশ ফেলতে দেইনি। তাদের কাছে কালো ব্যাগ দেখেছি। তারা সংখ্যায় কতজন ছিল, তা ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি।’
কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে, তবে কোন গাড়িতে তা আমি বলতে পারবো না। পুলিশ বলতে পারবে। আমার আসামিরা সবাই ফেরত এসেছে। প্রায় প্রতিদিনই জেএমবি, হুজিসহ অন্যান্য জঙ্গিদের হাজিরা থাকে কোর্টে। সোমবারও ছিল। আদালতে আনা-নেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। তারাই ভালো বলতে পারবেন।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলাসহ তিনজনকে হত্যার দায়ে গত ৭ ডিসেম্বর মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ ওইদিন তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। মুফতি হান্নান ছাড়া মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর দুই আসামি হলেন- হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) সদস্য শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল এবং দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপন।
২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে গ্রেনেড হামলায় আনোয়ার চৌধুরী সহ অনেকে আহত হন। নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন।
পরে পুলিশ বাদী হয়ে সিলেট কোতয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই মুফতি হান্নানসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সম্পূরক চার্জশিটে আরেক জঙ্গি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ও মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
/এআরআর/জেএইচ/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন: ওসি কুনিও হত্যা মামলার নথি হাইকোর্টে যাচ্ছে মঙ্গলবার








