একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণকে জেনোসাইড (গণহত্যা) উল্লেখ করে প্রথমবারের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই আবেদনের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ মো. হোসাইন ও মো. মোসলেম প্রধানের মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার (৭ মার্চ) এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। মামলার আসামি মোসলেম আটক থাকলেও হোসাইন পলাতক রয়েছে।
শুনানি শেষে তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন আদালতের রেফারেন্স দিয়ে আমি ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণকে জেনোসাইড হিসেবে চিহ্নিত করার আবেদন জানিয়েছি। রায় এলে বিষয়টি উপস্থাপনে কতটা সফল হলাম বুঝতে পারব।
এর আগে গত বছরের ৯ মে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হরি দেবনাথ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ মাস ২৫ দিন তাদের অপরাধের তদন্ত করেন। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে মূল একশ’ ৬১ পৃষ্ঠার সঙ্গে সর্বমোট চারশ’ ৩৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র রয়েছে।
তাদের দুইজনের মধ্যে হোসাইনের বিরুদ্ধে ৬টি ও প্রধানের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ রয়েছে। নিকলীর দামপাড়া গ্রাম ও নিকলী থানা ভবন, সদরের মহাশশ্মান এলাকায় ৭১ সালের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হোসাইনের বিরুদ্ধে ছয় নারীকে ধর্ষণ, সুধীর সূত্রধরসহ ৩৫ জনকে হত্যা ও বাদল বর্মণসহ চারজনকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পূর্বপাড়ায় ফুল মিয়াসহ ২৬ জনকে হত্যা, মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আব্দুল মালেকের নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
/ইউআই/টিএন/








