হেফাজতের দাবির কারণে স্কুলের পাঠ্যসূচির সাম্প্রদায়িকীকরণ থেকে সরে আসার জন্য ১২ দফা সুপারিশ করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এসব সুপারিশের মধ্যে অন্যতম হলো— একমুখী শিক্ষার দিকে অগ্রসর হওয়া, শিক্ষাক্ষেত্রের সব বিষয়ে বর্ণবাদ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা পরিহারে প্রয়োজনে প্রশাসনের দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, কবীর চৌধুরী শিক্ষা কমিশন বাস্তবায়নে শিক্ষা আইন পাস করা, সব ধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বাঙালি জাতির ইতিহাস পাঠ বাধ্যতামূলক করা।
শুক্রবার (১০ মার্চ) বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত পাঠ্যপুস্তকের সাম্প্রদায়িকীকরণ তদন্তে জাতীয় নাগরিক কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ এবং আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
আলোচনা সভায় কমিটির সুপারিশে বলা হয়, হেফাজতের দাবির কারণে স্কুলের পাঠ্যসূচিতে যে সাম্প্রদায়িকীকরণ হয়েছে তা থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়ে সরকারকে ক্রমান্বয়ে একমুখী শিক্ষার দিকে অগ্রসর হতে হবে এবং এ বিষয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে উর্দুকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতাকে রদ করে প্রাথমিক স্তরে ইবতেদায়ি শিক্ষা ব্যবস্থাতেও একই ধরনের পাঠ্যক্রম রাখতে হবে।
এছাড়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন খাতে মনিটরিং ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সিন্ডিকেট ভেঙে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষদের পদায়ন, কেবল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষককে দিয়ে বই লেখার প্রবণতা বাদ দিয়ে প্রাঞ্জল ভাষায় বই লিখতে পারদর্শীদের এ কাজে নিয়োজিত করা, পাঠ্যবইয়ে বানান ভুলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও জানায় কমিটি।
সব ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বাঙালি জাতির ইতিহাস পাঠ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়ে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না এবং জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় না, সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদকে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করেছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এছাড়া, হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর মতো সব মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী সংগঠনকে অবিলম্বে নিষিদ্ধের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অধ্যাপক অনুপম সেন, শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরি, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘হেফাজত তাদের রাজনীতি পাঠ্য বইয়ে চাপিয়ে দেওয়ার কারণে শিশুর মনে সাম্প্রদায়িকতার ছাপ পড়বে। তাই এর দায় পক্ষান্তরে সরকারকেই নিতে হবে।’
আরও পড়ুন-
‘মূর্তি’ না সরালে ঢাকা ঘেরাও: হেফাজত
এক ছাতার নিচ থেকেই হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ার হামলা!
/ইউআই/টিআর/








