সিলেটের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের রায় আগামী ১১ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে। রবিবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণার এই দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানি শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম ও বিলকিস ফাতেমা। আসামিপক্ষে ছিলেন এস এম আবুল হোসেন, বেলায়েত হোসেন, শাহরিয়ায় ও শহিদ উদ্দিন চৌধুরী।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ এনে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হত্যাকারীরাই। এরপর আসামিদের গ্রেফতারে তৎপর হয় পুলিশ। তবে সৌদি আরবে পালিয়ে যান প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম। তবে ১০ দিন পর প্রবাসীরা তাদের আটক করে দেশটির পুলিশে দেয়। ওই বছরের ১৫ অক্টোবর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এর আগেই দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ১৬ আগস্ট ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদার। তিনি প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম ছাড়াও তার ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদ, পাভেল আহমদ, ময়না চৌকিদার, রুহুল আমিন, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, দুলাল আহমদ, নুর মিয়া, ফিরোজ মিয়া, আজমত উল্লাহ ও আয়াজ আলীকে আসামি করেন।
একই বছরের ৮ ডিসেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন সিলেটের একটি আদালত। বিচারক আকবর হোসেন মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম ও তার তিন সহযোগী ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও জাকির হোসেন পাভেলের মৃত্যুদণ্ড দেন।
এ ছাড়া কামরুলের তিন ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদের সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় নূর মিয়া নামে এক জনের। এক বছর করে কারাদণ্ড হয় দুলাল আহমদ ও আয়াজ আলীর।
আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালত কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিলে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স শুনানি করতে হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নির্দেশে এই শুনানি দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে দায়রা আদলাতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের দাখিল করা আপিলেরও শুনানি হয়।
/ইউআই/এমএনএইচ/








