ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট করার দাবিতে আন্দোলনে থাকা গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রীরা আগামী ১৮ মার্চ আবার সমাবেশ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে গত চার দিনের মতো আর নীলক্ষেত মোড়ের সড়কে নয়, আপাতত কলেজ ক্যাম্পাসেই সমাবেশ করবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক তারিন সুলতানা শাম্মী।
বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত নীলক্ষেত মোড় অবরুদ্ধ রেখে মহাসমাবেশ করেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রীরা। শনিবার নীলক্ষেত মোড়ে নয়, কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা। ওইদিন নিজেদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে দেয়াল লিখন ও প্রচারপত্র বিলি করবেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া তাদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং শনিবার পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান এ সময় শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শাম্মী।
শাম্মী আরও বলেছেন, ‘আমাদের কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি কলেজ। কলেজটির সমস্ত কোর্স কারিকুলাম ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ করে ঢাবি। অথচ আমাদের কলেজটি শিক্ষার মানের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। যেভাবে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি চলছে, তাতে শিক্ষার মান নিম্ন থেকে নিম্নতর হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ ছাড়া অন্যান্য দেশে গার্হস্থ্য অর্থনীতির বিভাগগুলোর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।’
পরপর চার দিন নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনের পর শনিবার কেন কলেজ ক্যাম্পাসে জানতে চাইলে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ইসরাত জাহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন অব্যাহত আছে। আমরা শনিবার দাবির বিষয়ে যৌক্তিকতা তুলে ধরতে প্রচারপত্র বিলি করবো। দেয়াল লিখন হবে, এছাড়া নতুন উদ্যোগে আরও শক্তিশালী আন্দোলনের পরিকল্পনা করবো।’
ইসরাত জাহান বাংলা ট্রিবিউনকে আরও বলেন, ‘আমরা এর আগে অনেকবার ঢাবির উপাচার্যর কাছে ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি। উপাচার্য ও মন্ত্রণালয় থেকে বলাও হয়েছে যে, আমাদের দাবি যৌক্তিক। তবুও কেন আমাদের রাস্তায় নেমে আসতে হলো? কারণ আশ্বাস দিয়ে চুপ করে বসে আছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়।’
এদিকে বৃহস্পতিবার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রীদের আন্দোলনের বিরোধীতায় ঢাবি শিক্ষার্থীরা ভিসি চত্বর এলাকায় এক ঘণ্টা মানববন্ধন করেন। অন্যদিকে ছাত্রীদের আন্দোলনের কারণে ব্যবসার ক্ষতি হওয়ার কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে নিউমার্কেটের হকারদের একটি দল। কিন্তু পুলিশি বাধায় তারা সরে পড়ে।
প্রসঙ্গত, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট করার দাবিতে গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের দাবির মুখে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মন্ত্রণালয়ের দুটি কমিটিও গঠন করেন। কিন্তু সেই কমিটি কোনও কাজ করছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। পরে ১২ মার্চ কলেজের সামনের রাস্তা এবং এর পরদিন থেকে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গার্হস্থ্য অর্থনীতির ছাত্রীদের দাবির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘তারা অনেকেই জানেন না গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ অনেক আগে থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। চাইলেই তাদের ইনস্টিটিউটের দাবি মেনে নেওয়া যাবে না। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়।’
/আরএআর//জেএইচ/








