সিলেটে বিস্ফোরণে নিহত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদের সন্তানদের কাছে তুলে দেওয়া হলো সেনাবাহিনী ও র্যাবের পতাকা। বনানী কবরস্থানে আজাদের মরদেহ দাফন শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষে মেজর জেনারেল মতিউর রহমান ও র্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ দুই বাহিনীর পতাকা আজাদের সন্তানদের হাতে তুলে দেন।
এরআগে শুক্রবার (৩১ মার্চ) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে কর্নেল আবুল কালাম আজাদের মরদেহ বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দাফনের আগে সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ জুমা আজাদের প্রথম দফা এবং বিকাল ৩টায় র্যাবের সদর দফতরে দ্বিতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে সকাল ৯টায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদের মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে তার ময়না তদন্ত করা হয়।
ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘লে. কর্নেল আজাদের বাম চোখে স্প্লিন্টার ঢুকে মস্তিষ্কে আঘাত করে। এতেই তার মৃত্যু হয়।’
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ও লে কর্নেল আজাদের পরিবারের সদস্যসহ র্যাব পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় সিলেটের শিববাড়ির পাঠানপাড়ায় বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন র্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ। প্রথমে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে রাতেই তাকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ২৬ মার্চ রাত ৮টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেও শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি না হওয়ায় ২৯ মার্চ রাতে তাকে আবার ঢাকার সিএমএইচ-এ ফেরত আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদের জীবনী
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ১৯৭৫ সালের ৩০ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ৭ জুন ৩৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন। কমিশন লাভের পর নবীন অফিসার হিসেবে তিনি ৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন।
পরবর্তীতে তিনি সেনাসদর,প্রশাসনিক শাখা, জাতিসংঘ মিশন ব্যানব্যাট-৫ (আইভরিকোস্ট), ১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন, ১৯ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন) এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন কমান্ডো ছিলেন।
২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি র্যাব-১২ এর কোম্পানি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত র্যাব ফোর্সেস সদর দফতর, ইন্টেলিজেন্স উইং (টিএফআই সেল) এর উপ-পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কর্নেল আজাদ র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র এবং এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।
/এআরআর/এআর/ এপিএইচ/








