হাওরের রক্ষাবাঁধ ভেঙে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনায় ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকার সমমূল্যের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে অবিলম্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে হাওর অ্যাডভোকেসী প্ল্যাটফরম (হ্যাপ)। রবিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
হ্যাপ’র যুগ্ন আহ্বায়ক ও নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় তিনি বলেন, ‘এবারের বাঁধ বিপর্যয়ের কারণে গত ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলার দুই লাখ ২৩ হাজার ৮২ হেক্টর আবাদকৃত জমির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ এক লাখ ১৩ হাজার হেক্টর জমি। এছাড়া নেত্রকোনার মাত্র একটি বাঁধ এখন পর্যন্ত টিকে আছে, বাকি সব বাঁধ ভেসে গেছে। এতে নেত্রকোনার ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৩৮ হাজার ১১৫ হেক্টর, কিশোরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২০, হাজার হেক্টর। এই তিন জেলায় পানিতে ডুবে গেছে ১ লাখ ৭১ হাজার ১১৫ হেক্টর জমির ধান। এতে ২ কোটি ৫ লাখ মণ ধান কৃষকের ঘরে উঠছে না। প্রতি মণ ধানের দাম এক হাজার টাকা হলেও মোট ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে শরিফুজ্জামান শরিফ বলেন, ‘হাওরের বাঁধ নির্মাণের সময়ই আমাদের (হ্যাপ) একটি প্রতিনিধি দল সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেছে। কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজের বিষয়ে নানা মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বাঁধ বিপর্যয়ের পর প্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে, অনেক জেলায় দেরিতে কাজ শুরু হয়েছে। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় অনেক বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বাঁধ নির্মাণের শেষ সময় ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহেও অনেক বাঁধের নির্মাণ কাজই শুরু হয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে দুর্গত অঞ্চল ঘোষণা, পরবর্তী ফসল না ওঠা পর্যন্ত স্বল্প দামে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কার্যক্রম হাওরে বিস্তৃত করা, বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি রোধে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওরের কৃষক মাফিকুল ইসলাম, নেত্রকোনার ডিঙ্গাপোতা হাওরের নারায়ণ চন্দ্র দাশ, হ্যাপ’র আনিসুল ইসলাম, মণিষা বিশ্বাস, শেখর চন্দ্র, আসিফ খান, মোসাব্বের হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
/সিএ/টিআর/








