যৌতুক চেয়ে মারধরের ঘটনায় করা নারী নির্যাতনের মামলায় ক্রিকেটার আরাফাত সানিকে আবারও এক মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা আগামী ১৫ মে পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এ সময় বিচারক বলেন, এর আগে ৯ মার্চ দুপক্ষের মধ্যে আপোস হয়েছে এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আরাফাতের এক মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়। কিন্তু আজ শুনানির ধার্য দিনে ওই তরণী দাবি করেন তাদের মধ্যে এখনও মিমাংসা হয়নি। ফলে বিচারক কড়া ভাষায় আরাফাতের আইনজীবী মো. জুয়েল আহমেদকে বলেন, আগামী ১৫ মে পর্যন্ত আরাফাতের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করা হলো। এই সময়ের মধ্যে ফয়সালা না করলে তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হবে।
এদিকে, ওই তরুণী আদালতকে বলেন, ‘আমাকে উঠিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও এখনও তা করা হয়নি।
এ সময় আরাফাত সানি বলেন, ‘আমার প্রিমিয়ার লীগ খেলা জুলাই মাস পর্যন্ত।’ তাই তিনি জুলাই মাস পর্যন্ত জামিন চান। কিন্তু আদালত তার এই আবেদন নাকচ করে এক মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে ৯ মার্চ আদালত তার এক মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। সেসময় তারা জানিয়েছিলেন বাদী ও বিবাদীর মধ্যে আপোস হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আরাফাত সানির নামে যৌতুকের মামলা করেন তার স্ত্রী দাবিকারী এক তরুণী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মোহাম্মদপুর থানাকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর আগে মোহাম্মদপুর থানায় ওই তরুণীর দায়ের করা একটি জিডিকে গত ৫ জানুয়ারি তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। এরপর ২২ জানুয়ারি আরাফাত সানিকে তার আমিনবাজার এলাকার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ক্রিকেটার আরাফাত সানি বরাবরই বিয়ে ও ওই তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা অস্বীকার করে আসছেন।
মামলায় ওই তরুণী দাবি করেন, সাত বছর আগে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর উভয়ের পরিবারকে অবহিত না করেই সানির সঙ্গে তিনি গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু, বিয়ের পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ বাড়িতে তুলে না নিয়ে আরাফাত সানি সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এমনকি তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রস্তাব দিলেও সানি তাতে কান দেননি। এরপর গত ১২ জুন রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সানি তার নাম ব্যবহার করে নিজের মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং ওই আইডি দিয়ে তরুণীর নিজস্ব অ্যাকাউন্টে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি ও একক ছবি ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে তাকে নানা রকম হুমকি দিতে থাকেন। এরপর তার ফেসবুক আইডিতে নগ্ন ছবি পাঠিয়ে তাকে আরও উত্ত্যক্ত করতে থাকেন সানি এবং তাকে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুমকি দিতে থাকেন। এছাড়াও তার কাছে যৌতুক চেয়ে তাকে মারধর করেন আরাফাত সানি।
/এসআইটি/বিএল/
এ সংক্রান্ত আগের খবর:
নারী নির্যাতনের মামলায় আরাফাত সানির জামিন








