ধর্ষণ মামলার তিনদিন পরও তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা আসামিদের পাসপোর্ট জব্দ, কিংবা তাদের ব্যবহৃত পাসপোর্টের নম্বর জোগাড় করতে পারেননি। একজন আসামিও খুঁজে পাননি। তবে বিদেশ পালানো ঠেকাতে আসামিদের নাম-ঠিকানা ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আজ (সোমবার) দুপুরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম মোস্তাক আহমেদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসামিদের পাসপোর্ট কিংবা পাসপোর্টের নম্বর আমরা উদ্ধার করতে না পারলেও তাদের ব্যাপারে ইমিগ্রেশন পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। যাতে তারা বাইরে পালাতে না পারে। আসামিদের ধরার ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার, সবই করা হচ্ছে। সময় হলেই আপনারা জানতে পারবেন।’
তারা দেশে আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি ও অভিযান পরিচালনা করছি। এখনই সব তথ্য মিডিয়ায় দেওয়া যাবে না।’
পাসপোর্টের তথ্য ছাড়া কিভাবে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের শনাক্ত করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ফরমান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসামিদের নাম- ঠিকানা লিখে তা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাদাত আহমেদ ও নাইম আশরাফ ওই শিক্ষার্থীদের জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। ওইদিনই তারা ওই ছাত্রীদের বনানীর কে ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বর ‘দ্য রেইনট্রি’ নামের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলার সময় দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়। পরদিন ভয় দেখিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমে ভয়ে বিষয়টি কাউকে না জানালেও পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তারা মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আসামিরা প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় বনানী থানা পুলিশ প্রথমে তাদের মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে গত ৬ মে (শনিবার) ওই দুই তরুণীর অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করে বনানী থানার পুলিশ।
/এসএমএন/এপিএইচ/








