পুলিশ খুঁজে না পেলেও আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা!

আমানুর রহমান রনি
০৮ মে ২০১৭, ২১:৫৯আপডেট : ০৮ মে ২০১৭, ২১:৫৯

রাজধানীর বনানীস্থ দ্য রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনার মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের এখনও খুঁজে পায়নি পুলিশ। তবে তারা পরিবারের সঙ্গেই আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের পুলিশি গ্রেফতার এড়ানোর জন্য যারপরনাই চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদের অভিভাবকরা। ইতোমধ্যে আগাম জামিন নেওয়ার বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তারা। শিগগিরই এই অভিভাবকরা উচ্চ আদালতে হাজির হবেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন।

ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত (বাঁ থেকে) সাফাত আহমেদ, সাদমান সাকিফ ও নাঈম আশরাফ ধর্ষণ মামলার আসামি সাদমান সাকিফের বাবা মো. হোসেইন জনি উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন। সোমবার (৮ মে) সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান তিনি। তার ভাষ্য, ‘মামলার কোথাও আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। সে ওই মেয়েদের মারধর কিংবা মানসিক নির্যাতন করেছে এমন কোনও অভিযোগ করেনি বাদী। গণমাধ্যমে যেভাবে আমার ছেলেকে দোষী করে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা দুঃখজনক। কিন্তু আমার আত্মবিশ্বাস আছে, সাকিফ এ ঘটনায় জড়িত না, আমরাও অপরাধী না। এটা লুকিয়ে রাখার কোনও বিষয় না। আমরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছি, কিছুই লুকিয়ে রাখছি না। আমরা আইনজীবীর সঙ্গেও কথা বলছি। সেদিন কি ঘটেছিল আদালতে তা বলবেন তারা। আমি চাই, প্রকৃত ঘটনা বের হোক।’

সাকিফকে ফোন করে বিমানবন্দর থেকে ওই রেস্টুরেন্টে নিয়েছিল জানিয়ে তার বাবা বলেন, ‘সাকিফের কাছে সাফাত বড় ভাইয়ের মতো। সাফাতের চেয়ে বয়সে অনেক ছোট সাকিফ। একসঙ্গে তারা জুমআর নামাজ পড়ে। আমাদের বাসা পাশাপাশি। পড়ালেখার পাশাপাশি সাকিফকে আমার ব্যবসার সঙ্গে পরিচালক হিসেবে কাজ করছে।’

এদিকে অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার ছেলে ব্ল্যাকমেইলের শিকার। আমরা আদালতে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা মেডিক্যাল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। ডিএনএ টেস্টে যদি আমার ছেলে নির্দোষ হয় তাহলে আমরা মানহানির মামলা করবো।’

সাফাতকে নিজেদের সঙ্গে রেখেছেন কিনা কিংবা তাকে পুলিশে দিচ্ছেন না কেন প্রশ্ন করলে আপন জুয়েলার্সের মালিক বলেন, ‘আমার ছেলে এখন বাসায় নেই। সে আমাদের কাছে নেই। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার দিকেই অগ্রসর হচ্ছি। দেখা যাক কি হয়।’

প্রসঙ্গত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই শিক্ষার্থীদের জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। ওইদিনই তারা ওই ছাত্রীদের বনানীর কে-ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে দ্য রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যায়। মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়— সেখানে জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে মামলার সাফাত ও নাঈম।

পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে হত্যার পর লাশ গুম করার ভয় দেখিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দুই তরুণী নিকেতনে স্ব স্ব বাসায় ফিরে আসে। প্রথমে ভয়ে বিষয়টি কাউকে না জানালেও পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তারা মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আসামিরা প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় বনানী থানা পুলিশ প্রথমে তাদের মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলেও অভিযোগ আছে।

/এআরআর/জেএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম