কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার এক কিশোর বেড়াতে গিয়ে বন্ধুর ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের মারধোরের পর ধাওয়া খেয়ে পানিতে ঢুবে মারা গেছে। ওই কিশোর শোহানুর রহমান শোহান (১৬) পিলাই ইউনিনিয়নের পশ্চিম ষাটগোপালপুর গ্রামের বাদলের ছেলে। সোমবার (১৫ মে) সকালে পাগলারছড়া নামক একটি জলাধারে তার লাশ ভেসে ওঠে। ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তাপস চন্দ্র পন্ডিত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পিলাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ফরিদুল হক শাহিন সরদার জানান, নিহত শোহান গত শনিবার (১৩ মে) সন্ধায় একই গ্রামে তার বন্ধু জয়নালের বড় ভাই স্বপনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যায়। বন্ধুর বড়ভাই স্বপন তার স্ত্রীকে আনতে চাইলে তার শ্বশুর গোলাপ হোসেন মেয়েকে জামাতার সঙ্গে পাঠাতে চাননি। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাক-বিতণ্ড চলে। এক পর্যায়ে স্বপনের শশুরবাড়ির লোকজন স্বপনসহ তাদের চার জনকে মারধোর করেন। এসময় স্বপন, শোহান ও জয়নালসহ চারজন দৌড়ে পালাতে গেলে স্বপনের শশুর গোলাপ ও তার লোকজন তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে শোহানসহ দুই কিশোর স্থানীয় পাগলারছড়ার পানিতে পড়ে যায়। পরে অন্য দুই কিশোর পালিয়ে বাঁচলেও শোহানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
চেয়ারম্যান ফরিদুল হক আরও জানান, রবিবার (১৪ মে) শোহানের পরিবার রংপুর থেকে ডুবরি দল ডেকে ওই জলাধারে খোঁজ করেন। কিন্তু জলাধারে তার লাশ পাওয়া যায়নি। আজ সোমবার (১৫ মে) সকালে ছড়ার পানিতে শোহানের লাশ ভেসে ওঠে।
শোহানের বাবা বাদল আলী জানান, রবিবার ভূরুঙ্গামারী থানায় সন্তান নিখোঁজের ব্যপারে অভিযোগ করতে গেলেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিযোগ গ্রহণ করেননি।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি তাপস চন্দ্র পন্ডিত বলেন, ‘মেয়ের বাবা গোলাপ হোসেন তার বাড়িতে হামলার অভিযোগে নিহত কিশোরসহ চার কিশোরের নামে ওইদিন রাতেই মামলা করেন। পুলিশ দুই কিশোরকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। কিন্তু স্বপন ও শোহান পলাতক থাকে।’
শোহানের বাবার অভিযোগ গ্রহণ না করার প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তার নিখোঁজের অভিযোগ কিভাবে নেবো।’
/এসএমএ/








