রাজধানীর কদমতলী এলাকার পরিচিত একটি পরিবারের সঙ্গে থেকে পোশাক কারখানায় কর্মরত এক শ্রমিক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ওই পরিবারের গৃহকর্তা মো. সোহেল তাকে ধর্ষণ করেছে বলে কদমতলী থানায় মামলা করেছেন ওই তরুণী। এরপর আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিনয় কুমার বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় ১৫ মে থানায় একটি মামলা হয়েছে। এরপর ওইদিন রাতেই ভিকটিমকে আমরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ সার্ভিসে (ওসিসি) পাঠিয়েছি। অভিযুক্ত আসামিকে সোহেলকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তার রিমান্ড চাইলে আদালত তার রিমান্ড নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’
মামলার এজাহারে ওই তরুণী উল্লেখ করেছেন, কদমতলীর মদিনাবাগের একটি তিনতলা বাড়ির নিচতলায় মো. সোহেল (৩৫) নামে এক ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকায়। সোহেলের শ্বশুরবাড়িও মুরাদনগর। ভিকটিম তরুণীটি স্বামী পরিত্যক্তা। তিনি মুরাদনগরে তার মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। সোহেলের স্ত্রী ঢাকা থেকে বাড়িতে গেলে ভিকটিমের মা তাকে পোশাক কারখানায় কাজ জোগাড় করে দিতে অনুরোধ করেন। এরপর ২৭ মার্চ সোহেলের স্ত্রীর সঙ্গে ওই তরুণী ঢাকায় আসেন। দুই রুমের বাসার এক রুমে পরিবার নিয়ে থাকে সোহেল, অন্য রুমে থাকতে দেয় ওই তরুণীকে। ২ মে মিরাজনগরের একটি বোতামের দোকানে তাকে কাজে ঢুকিয়ে দেন সোহেলের স্ত্রী।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হওয়াতে সোহেল কিছুদিন ধরে কুমিল্লাতে ছিল। দুই সন্তান নিয়ে সোহেলের স্ত্রী একাই ওই তরুণীকে নিয়ে বাসায় থাকতেন। গত ১১ মে সোহেলের স্ত্রী ভিকটিম তরুণীকে বাসায় রেখে কুমিল্লাতে চলে যান। ১৩ মে রাত ১১টার দিকে হঠাৎ কেউ দরজা নক করে। দরজা খুলে ভিকটিম দেখতে পান সোহেলকে। কোনও খবর না দিয়ে এত রাতে সোহেলের বাসায় আসার কারণ জানতে চান তিনি। সোহেলের স্ত্রী বাসায় নেই, সেটাও জানান। এসময় সোহেল তাকে জানায়, বিশেষ একটি কাজে সে ঢাকায় এসেছে। রাতে থেকেই চলে যাবে। ওই রাতেই বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে তরুণীটিকে সোহেল দুইবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয় এজাহারে।
ভিকটিম তরুণীটি আরও অভিযোগ করেন, এই ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য সোহেল তাকে হুমকি দেয়। জানালে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার কথাও বলে। পরদিন ১৪ মে বাড়ির মালিক টুকু মৃধা বাসায় এলে ওই তরুণী তাকে বিষয়টি জানান। এরপর তার মাকেও এ ঘটনার কথা জানান তিনি। ঘটনা শুনেই তার মা ঢাকায় চলে আসেন। পরে ১৫ তারিখে স্বজনদের নিয়ে কদমতলী থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন ওই তরুণী।
এসআই বিনয় বলেন, ‘আমরা আসামিকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এখন মেডিক্যাল রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
/এআরআর/টিএন/








