বাসের ধাক্কায় ছাত্রী আহত হওয়ায় ‘ঠিকানা পরিবহন’ এর তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রীরা। বুধবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় বাস ভাঙচুরের পাশাপাশি আহত ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করা হয়েছে।
কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মঙ্গলবার (৩০ মে) বিকেলে কলেজটির শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের আমরিন নামে এক ছাত্রী কলেজের সামনেই ঠিকানা পরিবহনের ধাক্কায় আহত হয়। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ডেকে ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঠিকানা পরিবহন এর তিনটি বাস কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে আটকে রাখে।
এ বিষয়ে ঠিকানা পরিবহনের পরিচালক রুবেল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলেজটির শিক্ষার্থীরা আমাদের তিনটি বাস কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে আটকে রাখে। একটি বাস ভাঙচুর করে। এর পরে আমরা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানাই।’
বুধবার (৩১ মে) সকালে ঠিকানা পরিবহন কর্তৃপক্ষ, কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ও কলেজটির অধ্যক্ষ ফাতেমা সুরাইয়া এ বিষয়ে সমঝোতায় বসেন। ওই সমঝোতায় আহত শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার খরচ ও নগদ ১০ হাজার টাকা দেবে বলে জানায় পরিবহন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ছাত্রীরা এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে আরও দু’টি বাস ভাঙচুর করে।
সমঝোতার বিষয়ে ও ক্ষতিপূরণ বিষয়ে অধ্যক্ষ ফাতেমা সুরাইয়া বলেন, ‘পরিবহন কর্তৃপক্ষ নগদ দশ হাজার টাকা ও সে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত খরচ মেটাবে বলে মৌখিকভাবে জানালে ছাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে বাস ভাঙচুর করে। তাদেরকে কোনও ভাবেই ঠেকানো যায়নি।’
এদিকে, ঠিকানা পরিবহনের রোড সুপারভাইজার নিলয় আহমেদ কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ওই ছাত্রীর চিকিৎসার খরচ বহন করবো বলে লিখিত দিতে চেয়েছি এবং দশ হাজার টাকা নগদও দিতে চেয়েছি। এ সিদ্ধান্তে কলেজে অধ্যক্ষও রাজি ছিলেন। টাকা আনতে যাওয়ার পর পরই আমাদের কাছে কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি জেসমিন আরা রুমা ২০ হাজার টাকা দাবি করেছে। পরে সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করে।
কলেজ ছাত্রলীগ নেত্রী জেসমিন আরা রুমা এ বিষয়ে বলেন, ‘পরিবহন কর্তৃপক্ষ মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে মেটাতে চাইছে তাও আবার মৌখিক। আমরা বলেছি অন্তত ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। ওরা তা দিতে চাইনি বলেই শুনেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরে বাস ভাঙচুর করেছে। ওই সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।
/আরএআর/এসএমএ/








