সকালে ভিড় দুপুরে ফাঁকা, ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৩ জুন ২০১৭, ২১:৩১আপডেট : ১৩ জুন ২০১৭, ২১:৩১

কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিটের জন্য যাত্রীদের ভিড় (ছবি-ফোকাস বাংলা) প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য রাজধানী ঢাকাবাসী এখন ঘরমুখো। তাই যানবাহন কাউন্টারগুলোতে এখন যাত্রীদের ভিড়। কমলাপুর রেলস্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের একটি টিকিট কিনতে পারলে সোনার হরিণ হাতে পাওয়ার আনন্দ যাত্রীদের চোখেমুখে!

মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকালে কমলাপুরে গিয়ে জানা গেছে, ঈদের আগের বৃহস্পতি ও শুক্রবারের টিকিটের চাহিদা খুব বেশি। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন থাকায় বৃহস্পতিবার অফিস শেষে নাড়ির টানে যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা সবার। মঙ্গলবার বিক্রি হয়েছে ২২ জুন বৃহস্পতিবারের টিকিট। তাই সকাল থেকে ওইদিনের ট্রেনের আগাম টিকিটের জন্য কমলাপুরে ভিড় জমিয়েছেন টিকেট প্রত্যাশীরা।

তবে সকাল থেকে বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেলেও দুপুরের পর ছিল ফাঁকা। উত্তরবঙ্গ, খুলনা ও রাজশাহীর বিভিন্ন রুটের কাউন্টারগুলোতে টিকিট প্রত্যাশীদের লাইন ছিল একটু দীর্ঘ। আর চট্টগ্রামসহ পূর্বাঞ্চলের টিকিটের চাহিদা অনেক কম।

যাত্রী ও স্টেশন ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, তাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকিট রয়েছে। প্রতিদিন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ২২ হজার ১২২টি টিকেট দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ বিক্রি হচ্ছে অনলাইন ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। চাহিদা অনুযায়ী যাত্রীরাও টিকেট পেয়েছেন। খুব দ্রুত টিকিট ছাড়ায় অধিকাংশই বিক্রি হয়ে গেছে দুপুরের মধ্যে।

তবে কাউন্টার খোলার আগেই এসি বগির সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তারা বলছেন, সকাল থেকে লাইনের একেবারে শুরুতে থেকেও কেউ রেলের এসি টিকিট পাননি। অথচ কাউন্টারগুলো থেকে সব বিক্রি হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

গতকাল গভীর রাত থেকে কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনের এসি কেবিন নিতে লাইনে অপেক্ষা করেছেন আরিফুর রহমান নামে একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি রাজশাহীর টিকিট প্রত্যাশী। তার ভাষ্য, ‘আমার আগে ৩০ জনের মতো লোক লাইনে ছিলেন। একজন ৪টি করে টিকিট নিলেও তো সব টিকিট শেষ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমি চেয়েও এসি টিকিট কিনতে পারিনি।’ তার মতে, কমলাপুর স্টেশন থেকে প্রতিদিন চারটি করে ট্রেন রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। প্রতিটি ট্রেনে দুটি করে ৮টি এসি বগি রয়েছে। ৯২টি করে হিসাব করলে ৭৩৬টি আসন থাকে।

এ প্রসঙ্গে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি করা হয়। এ কারণে টিকিট শেষ হয়ে যেতে পারে। আমাদের হাতে যতক্ষণ আছে ততক্ষণ বিক্রি করছি। কোনও টিকিট কালোবাজারির হাতে যাওয়ার সুযোগ নেই। এখন একজন লাইনে দাঁড়িয়ে যদি ৪টা টিকিট কিনে এক বা দুটি বিক্রি করে দেয় তাহলে আমাদের করার কী থাকে?’

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার জানান, কাউন্টারগুলো থেকে ৬৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে। মোট টিকিটের ২৫ শতাংশ অনলাইনে, ৫ শতাংশ ভিআইপি এবং ৫ শতাংশ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত। তিনি বলেন, ‘কাউন্টারে আমাদের পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। সাদা পোশাকে রয়েছে গোয়েন্দারা। এখানে অনিয়মের কোনও সুযোগ নেই।’

এদিকে যাত্রীদের ভিড় ও চাহিদার কারণে পার্বতীপুর-রাজশাহীগামী রেলের দুটি স্পেশাল সার্ভিস ২৩ জুনের পরিবর্তে ২২ জুন থেকে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

/এসএস/জেএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম