হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গুলশানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। শনিবার ভোর থেকে হলি আর্টিজান বেকারির প্রবেশমুখগুলো পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এখানে জাপানি রাষ্ট্রদূত, জাইকা প্রতিনিধি এবং ইতালীর নিহতদের স্বজনরা শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন। সবকিছু বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, হলি আর্টিজান বেকারিতে এক বছর আগে জঙ্গি হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রেস্টুরেন্টটি খুলে দেওয়া হচ্ছে। ওই হামলার এক বছর পূর্তির দিন শনিবারে (১ জুলাই) রেস্টুরেন্টটি চার ঘণ্টার জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। হলি আর্টিজান বেকারির মালিক সাদাত মেহেদী বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হলি আর্টিজানের নিচতলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’
গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নারকীয় জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিক ও দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। জঙ্গিরা প্রায় ১২ ঘণ্টা অবরোধ করে রেখেছিল রেস্টুরেন্টটি। পরদিন (২ জুলাই) সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি। এসময় সাইফুল ইসলাম চৌকিদার নামে ওই রেস্তোরাঁর একজন শেফও নিহত হন। এছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন পর মারা যান আরেক শেফ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার (১ জুলাই) গুলশান হামলার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে হলি আর্টিজান বেকারি এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। রেস্টুরেন্টটির ঢোকার মুখেই চৌরাস্তায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ১৭ জন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইতালিয়ান নয় জন, জাপানি সাত জন ও একজন ভারতীয় নাগরিক। নিহত বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাদের স্বজন ও অন্যান্য বিদেশি নাগরিকরা সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। এছাড়া, দেশি-বিদেশি প্রচুর সাংবাদিকও সংবাদ সংগ্রহের জন্য যাবেন রেস্টুরেন্টটিতে। এ কারণে ওই এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম
/জেএ/এআরআর/এসএনএইচ/এনআই








