হত্যাকাণ্ডের চৌদ্দ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশের সহকারী কমিশনার (এএসপি) মিজানুর রহমান তালুকদারের (৫০) হত্যাকারীদের শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার করতে পারেনি ঢাকা মহানগর পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ধরন বিবেচনায় তদন্তের শুরু থেকেই ছিনতাইকারীদের দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। তবে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন কোনও ছিনতাইকারীকে শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলায় জব্দ করা আলামত, এএসপি মিজানের শরীর থেকে নেওয়া রক্তের নমুনা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ঝুট কাপড়ের ফরেনসিক রিপোর্ট ও বিষ জাতীয় কিছু প্রয়োগ করা হয়েছিল সেসব পরীক্ষার প্রতিবেদনও পুলিশের কাছে পৌঁছেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার ( ৪ জুন) বিকালে মামলার তদারকি কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গোয়েন্দা পুলিশের ছয়টি টিম এখনও কাজ করে যাচ্ছেন। আসামি গ্রেফতার না হলেও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। নিশ্চয়ই খুনের সঙ্গে জড়িতরা গ্রেফতার হবে।’
তদন্তকারী গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে অনেক দূর এগিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশ। যারা খুন করেছেন তাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। এখন গ্রেফতার করতে পারলেই খুনের রহস্য উদঘাটিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসামিরা যাতে পালিয়ে না যায়— এইজন্যই তাদের কর্মকাণ্ড ও পেশার ধরন নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নিষেধ করা হয়েছে।’ আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আসামিরা ধরা পড়বে বলেও তিনি জানান।
গোয়েন্দা পুলিশের অন্য একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রাথমিকভাবে লাশ ফেলার পয়েন্ট ধরে তাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে, দুর্বৃত্তরা উত্তরা থেকে মিরপুরের দিকে গেছে। যাওয়ার পথেই লাশ ফেলে যায় তারা। ওই সূত্র ধরেই তদন্ত কাজ চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বলার মতো কোনও অগ্রগতি নেই, তবে তদন্ত চলছে।’
গত ২১ জুন রাজধানীর রূপনগর থানার মিরপুর বেড়িবাঁধের বোটক্লাব এলাকার রাস্তার পাশে ঝোঁপঝাড় থেকে এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদারের (৫০) লাশ উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদারের ভাই মাসুম তালুকদার বাদী হয়ে রাজধানীর রূপনগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলা তদন্তের ভার ন্যস্ত হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে।
আগামী ৩০ জুলাই এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মাজহারুল হক।
মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক প্রদীপ বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এএসপি মিজানের শরীরের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার গলার চারপাশে একটা গোল কালো দাগ ছিল। মাথায়, বাম হাতে ও দুই পায়ে লাঠি বা শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করার চিহ্ন ছিল। দুই গাল ও বুকের ওপরের অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। যেসব জায়গায় আঘাত করা হয়েছে, সেসব জায়গায় রক্ত জমে ছিল।’
/এসএমএন/এসএমএ/








