তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (আইসিটি অ্যাক্ট) বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল হচ্ছে কিনা, তা রবিবারই জানা যেতে পারে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুতের লক্ষ্যে রবিবার (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য একটি বৈঠকের পরই নির্ধারিত হবে ৫৭ ধারার ভবিষ্যত। তবে সূত্র বলছে, এই ধারার ভাগ্য প্রায় নির্ধারিত— এ ধারা আর থাকছে না। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে যে নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে, সেই আইনের কারণেই তথ্যপ্রযুক্তি আইন থেকে বিতর্কিত ৫৭ ধারা ছাড়াও ডিজিটাল অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়গুলোকেও সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
আসলেই কী হচ্ছে ৫৭ ধারা নিয়ে, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ধারা বাদ দেওয়া হবে, তা আমরা অনেক আগেই জানিয়েছি। কিন্তু এর জন্য একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে, বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ হবে। এর মধ্য দিয়েই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করেন। এটি নিয়ে কাজ হচ্ছে। হুটহাট করে কিছু করার জটিলতা আছে।’
জানা গেছে, রবিবারের সভায় উপস্থিত থাকতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই), র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যা ব), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (আইসিটি), বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসকে (বেসিস) অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় সম্প্রতি বেশকিছু মামলা দায়ের হওয়ায় এই ধারাটি আলোচনায় এসেছে। এই ধারায় দায়ের করা মামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা, খুলনা ও হবিগঞ্জের চার সাংবাদিক। ওয়ালটনের পণ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জের ধরে ৫৭ ধারায় দায়ের হওয়া এক মামলায় সম্প্রতি অনলাইন নিউজ পোর্টাল নতুন সময় ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক আহমেদ রাজুকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক নাজমুল হোসেন ও সকালের খবরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আজমল হক হেলালের বিরুদ্ধেও এ আইনে মামলা হওয়ায় আগামী মঙ্গলবার (১১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন সাংবাদিকরা।
এর আগে, আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বিলুপ্ত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রিটটি বর্তমানে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামীকালের এজেন্ডা মূলত ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট। এর সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সরাসরি সম্পৃক্ত। কেননা, ভিন্ন কোনও আইনি জটিলতা না থাকলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ডিজিটাল অপরাধ বিষয়ক সবকিছুই এই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে নিয়ে আসা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ডিজিটাল অপরাধগুলো ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় চলে এলে ৫৭ ধারার আর প্রয়োজনই পড়ে না। এসব বিষয় নিয়েই কাল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।’
আলোচিত ৫৭ ধারা নিয়ে রবিবারের সভা থেকে ইতিবাচক একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ও বর্তমানের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা এক হচ্ছে কিনা, অনেকেই এমন প্রশ্ন করতে চেষ্টা করছেন। তাদের বলতে চাই, আগামীকাল হয়তো আমরা খসড়া চূড়ান্ত করব। আপনারা এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।’
/ইউআই/টিআর/টিএন/








