‘সপ্তম আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা দিবস ২০১৭’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন নিয়ে পুলিশ ও ইউনূস সেন্টারের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ইউনূস সেন্টার বলছে, সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত হওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছিল। হঠাৎ করা হয়েছে-পুলিশের এই বক্তব্য সত্য নয়। আর পুলিশ বলছে, ২০ জুলাই একটি চিঠি দেওয়া হয় তাদের। এরপর কী করতে হবে ইউনূস সেন্টারকে জানানো হয়। কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হওয়া পর থেকেই সিকিউরিটি এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসির সঙ্গে আলাপ করা হয়। পুলিশের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। তিনদিন আগে যোগাযোগ করা হয়েছে এটা সম্পূর্ণ ভুল।’ তবে নিরাপত্তার জন্য আবেদন কবে করা হয়েছিল তা জানাতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, ‘এটা একটা বড় প্রোগ্রাম। ৩৬ দেশের ৫০০ অতিথি আসবেন। দেশের ভাবমূর্তির ব্যাপার আছে এখানে। আমার মনে হয়েছে, ইউনূস সেন্টার এই আয়োজন বিচ্ছিন্নভাবে করেছে। তারা সরকারের কোনও পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারা একটি চিঠি ঢাকার এসপির কাছে দিয়েছে। এতে প্রোগ্রাম হয়ে যাবে? এটা কি সম্ভব?’
তিনি আরও বলেন, ‘২০ জুলাই তারা আমাকে দাওয়াত দিতে এসেছিল। নিরাপত্তার কথা তো বলেননি। ২৩ জুলাই অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়া উদ্দিন জানান,তারা সামাজিক ব্যবসা নিয়ে অনুষ্ঠান করবেন। তখন সম্মেলনের বিষয়ে কোনও নির্দেশনা আছে কিনা- জানতে চেয়ে পুলিশ সদর দফতরে একটি চিঠি পাঠাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও যোগাযোগ করা হয়। যোগাযোগ আমরা করলে তো হবে না, তাদের করতে হবে। তারা বিদেশ থেকে লোক আনতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ক্লিয়ারেন্স নেবে। কোন হোটেলে অতিথিরা থাকবেন,নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তারা তো বিষয়টাকে ছেলেখেলা মনে করেছেন।’ সরকরাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেরার জন্য ড. ইউনূস এ কাজটি করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ভেন্যু বলবেন, অতিথিদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে আপনারা প্রোগ্রাম করেন। ২৩ জুলাই তাদের সঙ্গে এ কথা হয়েছে। তখন ওই মেজর বলেন,আমি তো দায়িত্বে নেই, শুধু আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এরপর তিনি বলেন,আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে আপনাকে ধরিয়ে দেই। আমি বললাম, আমি পারবো না। তখন উনি জানতে চান, তাহলে কোন লেভেলে যোগাযোগ করতে হবে? আমি বললাম, একটা আন্তর্জাতিক প্রোগ্রাম করবেন কোন লেভেলে কথা বলবেন এটা আপনাদের জানতে হবে। পরে সব বিষয় তাকে বলেছি। ২৬ জুলাই তারা ভেন্যু ও স্মারক তৈরি করছে বলে জানান। তখন বিষয়টি পুলিশ সদর দফতরকে জানাই। আমাকে জানানো হয়, ইউনূস সেন্টার এ নিয়ে কোনও যোগাযোগ করেনি। দেশে নানা সমস্যা রয়েছে, এর মধ্যে কোনও সমস্যা হয় তার দায় কি ইউনূস সাহেব নেবেন?’
পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি না পেয়ে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) সম্মেলনটি বাতিল করে দেয় ইউনূস সেন্টার। শুক্রবার থেকে জিরাবোর সামাজিক সম্মেলন কেন্দ্রে এটি শুরু হওয়ার কথা ছিল।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেছিলেন,‘অল্প সময়ে সম্মেলনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তাই এটি করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।’
/জেইউ/এসএমএ/এসটি/এফএস








