বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক হেদায়েত উল্লাহ হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি মোশারফের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলমকে ১০ বছর কারাদণ্ড এবং হারুন উর রশিদকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩১ জুলাই) এ মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আব্দুর রেজাক খান ও দেলোয়ার হোসেন লস্কর।
}পরে মনিরুজ্জামান রুবেল সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘অপরাধের মাত্রা বা গভীরতা বিবেচনা করে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোশারফকে যাবজ্জীবন, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীরকে ১০ বছর এবং হারুন উর রশিদকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।’
২০০৭ সালের ২১ জুলাই রাতে আসামিরাসহ ৫/৬ জনের একটি ডাকাত দল হেদায়েত উল্লাহ’র ধামরাইয়ের বিজয়নগরের বাসায় রান্না ঘরের গ্রিল কেটে প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের মুখে সবাইকে বেঁধে ফেলে। পাশের অন্য একটি ঘর থেকে হেদায়েত উল্লাহ বের হয়ে আসলে ডাকাতরা তাকে গুলি করে। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ধামরাই সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুর রশিদ ধামরাই থানায় ডাকাতিসহ খুনের মামলা করেন।
ঘটনাটি তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক চৌধুরী তরিকুল ইসলাম আসামিদের অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার বিচারকালে ২৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। আসামি মোশারফ ও জাহাঙ্গীর আলম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৩ মে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফাতেমা নজীব এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দু’জনকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আনিছ ওরফে কসাই আনিসকে খালাস দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন এবং ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
/এমটি/এপিএইচ/








