তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানের এক চোখে আলো ফিরবে না বলে আগেই জানিয়েছিলেন দেশের চিকিৎসকরা। তবে অন্য চোখে আলো ফেরার আশায় ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু সেখানের চিকিৎসকরাও জানিয়ে দিয়েছেন তার দুই চোখেই আলো ফেরার কোনও সম্ভাবনা নেই। তারপরও চোখে অপারেশন করাতে চান সিদ্দিকুর রহমান। তার আশা, যদি কিছু ঘটে যায়, মিরাকেল বলেও একটা জিনিস আছে পৃথিবীতে। সেই মিরাকেলে যদি চোখের আলো ফেরে, তাহলে সুস্থ হয়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবেন। শেখ ফরিদ নামে সিদ্দিকুরের এক বন্ধু ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভারতের চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ের চিকিৎসক তাদেরকে জানিয়েছেন, সিদ্দিকুরের বাম চোখে দৃষ্টি ফেরার কোনও সম্ভাবনাই নেই, তার ডান চোখের সঙ্গে সঙ্গে বাম চোখও নষ্ট হয়ে গেছে। প্রথমে চিকিৎসকদের এ সিদ্ধান্ত জানার পর সিদ্দিকুর কেঁদেছিলেন। তবে তিনি ভেঙে পড়লেও পরে চোখে অপারেশন করানোর সিদ্ধান্ত নেন। বন্ধু শেখ ফরিদকে ফোনে তিনি জানিয়েছেন, ‘যদি এখানে না আসতাম তাহলে কোনও কথা ছিল না। কিন্তু যখন এসেছি, তখন অপারেশনটা করেই যাই। তাতে মানসিক শান্তি থাকবে। চিকিৎসার কোনও ত্রুটি আমরা করিনি। আর এখন বিষয়টা ভাগ্যের ওপরে ছেড়ে দিয়েছি। অপারেশনটা করি, যা হবার তাই হবে। এখনতো কিছু করার নেই।’
উল্লেখ্য, পরীক্ষার রুটিন ও তারিখ ঘোষণাসহ কয়েকটি দাবিতে গত ২০ জুলাই সকাল ১০টার দিকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়া নতুন সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। পুলিশের টিআরসেলের গ্যাসে গুরুতর আহত হন তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান। এরপর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ শুরু হয়। পরে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশে ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের তত্ত্বাবধানে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসরা তাকে চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠান।
চেন্নাই যাওয়ার আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেখতে যান সিদ্দিকুরকে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সিদ্দিকুর জানিয়েছিলেন, তার মা ছাগল আর মুরগী পালন করে সংসার চালান। বড় ভাই নওয়াব আলী নিজের পড়াশোনা বাদ দিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ করে তাকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। অন্তত এক চোখে দেখতে পেলে পরিবারের হাল ধরতে পারবেন তিনি। সিদ্দিকুর সেই আশ্বাসও পেয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তাকে দেখতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি সুস্থ হয়ে আসো, তোমার ব্যবস্থা করে দেবো।’
সিদ্দিকুর স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন, তিনি তিতুমীর কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষে লেখাপড়া করছেন। প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন। ইচ্ছে ছিল বিসিএস দিয়ে বড় কর্মকর্তা হবেন। সে লক্ষ্যে তিনি বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ইংরেজি কোচিংয়ে ভর্তিও হয়েছিলেন। কিন্তু যেদিন তার ক্লাস করার কথা সেদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।
ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতে এখানকার চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছিলেন, বাম কানের পাশ দিয়ে আলো ফেললে তিনি বাম চোখে অল্প দেখতে পাচ্ছেন। এতে চিকিৎসকদের সঙ্গে আশা দেখেছিলেন পুরো দেশবাসী। কিন্তু চেন্নায়ের চিকিৎসকদের ঘোষণার পর আশাহত হন সিদ্দিকুরসহ দেশবাসী।
/এসএমএ/এসএনএইচ/








